আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় নারী এশিয়া কাপ। এই টুর্নামেন্ট সামনে রেখে সপ্তাহ খানেকের সাময়িক ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ। আজ সকালে ফিটনেস কোচ লর্ড ম্যাকরনের অধীনে অনুশীলনও হয়েছে। বাংলাদেশ দলের আজকের অনুশীলন সেশনে ছিলেন সুইডেন প্রবাসী নারী ফুটবলার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী।
টুর্নামেন্টের এক মাস আগে প্রাথমিক নিবন্ধন করাতে হয়। আনিকার বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকায় বাফুফে এএফসি পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে রেখেছে। দিন দশেকের ট্রায়ালে ফর্ম ও ফিটনেসে উত্তীর্ণ হলে আনিকা থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ঋতুপর্ণাদের সফরসঙ্গী হতে পারেন। বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দলে একাধিক প্রবাসী ফুটবলার থাকলেও নারী দলে এত দিন ছিলেন শুধু জাপানিজ সুমাইয়া মাতসুসিমা।
এশিয়া কাপের মাত্র মাস খানেক আগে আনিকাকে ট্রায়ালের সুযোগ দিয়েছেন বৃটিশ কোচ পিটার বাটলার। অথচ বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রাণী সরকার, মাসুরা পারভীনের মতো পরীক্ষিত ফুটবলারদের ক্যাম্পে ডেকে পরখ করার প্রয়োজনই মনে করেন না তিনি। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি বাটলারের এমন আচরণকে দ্বিচারিতা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘সাবিনা, কৃষ্ণা অত্যন্ত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। তারা ভুটান লিগ ও ফুটসালেও ভালো পারফরম্যান্স করেছে। এরপরও যখন তাদের ন্যূনতম ক্যাম্পে ডেকে অনুশীলনের সুযোগ না দেয়া হয় তখন সেটা বোঝা যায় কোচের রাগের বহিঃপ্রকাশ। সাবিনা, মাসুরাদের ট্রায়ালে পরীক্ষাও করবেন না তিনি অথচ অন্য ফুটবলারকে টুর্নামেন্টের এক মাসে ট্রায়ালে নিচ্ছেন এটা দ্বৈতনীতি ছাড়া কিছু নয়।’
ফুটবলে প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা, খেলার পদ্ধতি, ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড় বদল সকল কিছুতেই কোচ সর্বেসর্বা। তার যেমন অধিকার রয়েছে খেলোয়াড় ডাকার কিংবা বাদ দেয়ার। তদ্রুপ কোচকে প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে গণমাধ্যমের। সাবিনা, মাসুরাকে নিয়ে বাটলারকে প্রশ্ন করলেই সাংবাদিকরা কোচের তোপের মুখে পড়েন। আনিকা ট্রায়ালে, কিন্তু অন্য সিনিয়র ফুটবলাররা এত কিছুর পরও ক্যাম্পে নেই কেন? মিডিয়ার এই প্রশ্ন করার সুযোগ হয়নি অ-১৯ দল নিয়ে বাটলার নেপালের পোখরায় যাওয়ার। বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণের কাছেও এই বিষয়ে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
