
অস্ট্রেলিয়ান
ওপেনে কোকো গফের হারের পর হতাশা জনসম্মুখে লুকাতে চাইলেও পারেননি।
স্টেডিয়ামের ক্যামেরায় ধরা পড়ে তার হতাশা প্রকাশের মুহূর্ত, যেখানে ছিল
ক্ষোভের বিস্ফোরণ। আর সেই ভিডিও ভাইরাল হলে বিব্রত হতে হয়েছে আমেরিকানকে।
এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি যেন আর না হতে হয়, সেজন্য আরও বেশি ব্যক্তিগত
গোপনীয়তার দাবি জানিয়েছেন তিনি, যার প্রতি সমর্থন দিয়েছেন অন্য খেলোয়াড়রাও।
গফ ও নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ইগা শিয়াটেকের অনুভূতিটা হচ্ছে
অন্যরকম- নিজেদের ‘চিড়িয়াখানার প্রাণীর’ মতো মনে হয়েছে।
মঙ্গলবার
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে পরাজিত হয়ে র্যাকেট আছাড়া মারেন
গফ। স্টেডিয়ামের ক্যামেরায় তার সেই মুহূর্তের ধারণকৃত ভিডিও ভাইরাল হলে
হতাশ হন তিনি। এই আমেরিকান জানান, নিজের হতাশা প্রকাশের জন্য একটি
ব্যক্তিগত জায়গা খুঁজছিলেন। ভক্ত ও শিশুদের সামনে এমন কিছু হোক, তা তিনি
চাননি। গফ এর কিছুক্ষণ পরেই বলেন, ‘আমি এমন কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম
যেখানে তারা এটি সম্প্রচার করবে না, কিন্তু স্পষ্টতই তারা তা করেছে। হয়তো
কিছু আলোচনা করা যেতে পারতো, কারণ আমার মনে হয় এই টুর্নামেন্টে আমাদের
একমাত্র ব্যক্তিগত জায়গা হলো লকার রুম।’আরও পড়ুন
তার কর্মকাণ্ডের ফুটেজ
অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার একদিন পর গফ এক্স-এ পোস্ট করেছেন, ‘আমি বাস্তব
অনুভূতির একজন আসল মানুষ। আমি অনেক কিছু গুরুত্ব দেই এবং আমি আমার সেরাটা
দেওয়ার চেষ্টা করছি। যারা এটি বোঝেন তাদের ধন্যবাদ।’ মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস তার সমর্থনে এক্স-এ লিখেছেন,
‘আবেগ, যত্ন। হারতে ঘৃণা করার মধ্যে কোনো ভুল নেই।’
এলিনা রিবাকিনার
কাছে মেলবোর্নে কোয়ার্টার ফাইনালে পরাজিত হয়ে বিদায় নেওয়া শিয়াটেক বলেছেন
যে, পর্দার পেছনের ক্যামেরাগুলো অনুপ্রবেশকারীর ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বের
দুই নম্বর তারকা বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, আমরা কি টেনিস খেলোয়াড়, নাকি আমরা
চিড়িয়াখানার প্রাণী- যাদের মলত্যাগের সময়ও পর্যবেক্ষণ করা হয়?’
তিনি
বলে গেলেন, ‘ঠিক আছে, সেটা স্পষ্টতই অতিরঞ্জিত ছিল, তবে কিছুটা ব্যক্তিগত
গোপনীয়তা থাকা ভালো। নিজের মতো থাকার চেষ্টা থাকা এবং সব সময় পর্যবেক্ষণে
না থাকা ভালো। পুরো বিশ্ব দেখতে পায় না, এমন একটি জায়গা থাকা ভালো, যেখানে
আপনি নিজের মতো থাকতে পারেন।’
এই সপ্তাহে শিয়াটেক নিজেও মাঠের বাইরের
একটি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাকে মেলবোর্ন পার্কের একটি এলাকায় প্রবেশ করতে
বাধা দেওয়া হয়েছিল, কারণ তিনি তার অ্যাক্রেডিটেশন (পরিচয়পত্র) কার্ড
পরেননি। এটি ক্যামেরায় রেকর্ড করা হয়েছিল এবং ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায়
ভাইরাল হয়।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি এমন হওয়া উচিত কারণ আমরা
টেনিস খেলোয়াড়। আমাদের কোর্টে এবং সংবাদ সম্মেলনে দেখার কথা। সেটাই
আমাদের কাজ। আপনি আপনার কার্ড ভুলে গেলে মিম হওয়া আমাদের কাজ নয়।’
ষষ্ঠ
বাছাই জেসিকা পেগুলা। আমান্ডা আনিসিমোভাকে হারিয়ে শেষ চারে ওঠা এই
খেলোয়াড়ও একমত যে কোর্টের বাইরের ক্যামেরাগুলো খুবই বিরক্তিকর। তিনি বলেন,
‘কোকো ভুল বলেনি যখন সে বলেছিল একমাত্র লকার রুমই ব্যক্তিগত জায়গা, যা
সত্যিই পাগলামি। আপনি কেবল আপনার দিনটি পার করছেন, কিন্তু মনের ভেতরে চলছে
যে, কেউ আপনাকে ক্রমাগত ভিডিও করছে...। আমি অনলাইনে দেখেছি মানুষ
খেলোয়াড়দের ফোনের ওপর জুম করছে। এটি একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। আমি মনে করি
এটি সত্যিই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লংঘন।’
