ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরী করতে পারে এমন শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা ধরেই অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। কুমিল্লা জেলায় এমন ৩৪৩ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের তালিকা তৈরী করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান।
পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, সর্বশেষ ৩৪৩ জনের তালিকা তৈরী করে তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য ও পর্যালোচনা করে এই তালিকায় আরো নাম অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে। তালিকায় অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ, নাশকতাকারী ও বিভিন্ন মামলার আসামি রয়েছে যারা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা তৈরী করতে পারে বলে আশংকা রয়েছে।
পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে সেনাবাহিনী ও র্যাব সহযোগিতা করছে। প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এর বাইরেও এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সন্ত্রাসীদের আনাগোনা নজরদারিতে রয়েছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে সন্ত্রাসীরা যাতে অবৈধ অস্ত্র দেশে নিয়ে আসতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের তথ্যমতে, দাগি সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই তালিকা প্রকাশ করা হয়। এসব তালিকা ধরেই অস্ত্র উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তারে আরো
অভিযান চালানো হবে। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর মধ্যে সর্বাধিক ৩১ জন চৌদ্দগ্রামে। কোতোয়ালিতে ৮ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ, সদর দক্ষিণ থানায় ৮ জন চাঁদাবাজ ও ৭ জন সন্ত্রাসী, চৌদ্দগ্রাম থানায় ৫ জন চাঁদাবাজ ও ২৬ জন সন্ত্রাসী। নাঙ্গলকোটে ৪ জন চাঁদাবাজ ও ৪ জন সন্ত্রাসী। লাকসামে ৯ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ। মনোহরগঞ্জে আছে ৩০ জন সন্ত্রাসী। ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬ জন সন্ত্রাসী ও ৩ জন চাঁদাবাজ। বরুড়ায় ১৮ জন সন্ত্রাসী ও ৮ জন চাঁদাবাজ। চান্দিনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ। দাউদকান্দিতে ১০ জন সন্ত্রাসী ও ১০ জন চাঁদাবাজ। তিতাসে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ ১১ জন, হোমনায় ১২ জন সন্ত্রাসী ও ৪ জন চাঁদাবাজ। মেঘনায় ৬ জন চাঁদাবাজ ও ৩ জন সন্ত্রাসী। মুরাদনগরে ২২ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। দেবিদ্বারে ৯ জন সন্ত্রাসী। বাঙ্গরা বাজারে ৯ জন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তবে লালমাই ও বুড়িচংয়ের সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজের তালিকা দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন থানায় আছে আরও অন্তত ৭৯ জন সন্ত্রাসী।
র্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবির সমন্বয়ে অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যে কোনো সময় অভিযান শুরু হবে।
এদিকে গত মঙ্গলবার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব) আবুল ফজল মোঃ সানাউল্লাহ অস্ত্র উদ্ধারে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, যেসব হারানো অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয় নি। তা এখনো দুশ্চিন্তার বিষয়। সন্ত্রাস দমনে চেকপয়েন্ট অপারেশন্স বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা যেন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতেও নিরাপদ বোধ না করে তাই নিরবিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
