ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী 'বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্র' এর পাঠক এবং গবেষকরা এবার পড়তে পারবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে রচিত বিভিন্ন বই। জীবনের শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়ে যাওয়া খালেদা জিয়াকে জানার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সহ প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর পাঠকদের তুমুল আগ্রহ এবং কৌতুহলের দিকে লক্ষ্য রেখেই এমন অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্যোগটি নিয়েছেন কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব তারিক চয়ন, যিনি উক্ত লাইব্রেরি ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাস করেন। উল্লেখ্য, কলকাতার পার্ক সার্কাসের তিন নম্বর সোহরাওয়ার্দী এভিনিউয়ের এই বাড়িটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসান সোহরাওয়ার্দী এবং অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতি বিজড়িত।
এমন উদ্যোগ সম্পর্কে তারিক চয়ন বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই লাইব্রেরিটিতে বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ভূগোল, আইনকানুন, কৃষি- পরিবেশ, শিক্ষা-চিকিৎসা সহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী এবং তাদের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বাংলা এবং ইংরেজি বই রয়েছে। কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয় আমি এখানে (২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি) যোগ দেওয়ার পর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি বই-ও দেখতে পাইনি! তার নাম উল্লেখ রয়েছে এমন বই-ও নেই কিংবা সড়িয়ে ফেলা হয়েছে। লাইব্রেরিতে বই খুঁজে বের করার জন্য কোনো ক্যাটালগও ছিল না। আমি দিনের পর দিন নিজ হাতে ধরে ধরে বিভিন্ন সেলফে ক্যাটাগরি অনুসারে ভাগ ভাগ করে বইগুলো সাজিয়েছি। বাংলাদেশ সম্পর্কে সহজে জানতে 'বাংলাদেশ কর্ণার'ও করেছি।
খালেদা জিয়ার বই কোথায় পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, "কিছু বই আমি নিজ অর্থ ব্যয়ে ক্রয় করেছি। কিছু বই সংগ্রহ করেছি। কিছু বই ঢাকা থেকে প্রকাশকরা দিয়েছেন।"
