কুমিল্লায়
পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে
স্বামীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পশ্চিমপাড়
এলাকার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক
মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।
নিহত ফারজানা আক্তার লিমা (২২) কুমিল্লা হাউসিং
স্টেট দুই নম্বর সেকশনের শাহী জামে মসজিদ এলাকার মৃত রহিম মিয়ার মেয়ে। তিনি
এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। তার ছেলে শিফায়েত হোসেনের বয়স ৩ বছর এবং মেয়ে
মরিয়াম আক্তারের বয়স ১৮ মাস।
অভিযুক্ত স্বামী শিপন মিয়া কুমিল্লার
মুরাদনগর উপজেলার নেয়ামতকান্দি গ্রামের মৃত সুজন মিয়ার ছেলে। শিপন
স্বপরিবারে কুমিল্লা ধর্মসাগর পশ্চিমপাড় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে
বসবাস করতেন। তিনি পেশায় পিঠা বিক্রেতা ছিলেন।
নিহতের বড় ভাই রায়হান
জানান, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শিপন ফোন করে তাকে দ্রুত ধর্মসাগর
পশ্চিমপাড় এলাকায় আসতে বলেন। ফোনালাপের সময় চিৎকার ও চেঁচামেচির শব্দ শোনা
যায়। পরে রায়হানসহ পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লিমাকে ঘরের মেঝেতে
নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার পরপরই শিপন ও তার বড় ভাই রিপন পালিয়ে
যান। পরে লিমাকে উদ্ধার করে পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে
চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রায়হান আরও জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে
লিমা ভালোবেসে শিপনকে বিয়ে করেন। শিপন গরমকালে ডাব এবং শীতকালে পিঠা বিক্রি
করতেন, এতে লিমাও তাকে সহযোগিতা করতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তারা ধর্মসাগর
পাড় এলাকায় পিঠা বিক্রি করছিলেন। এ সময় পাশের বাড়ির এক নারী থেকে একটি
নারকেল কুড়ানি আনেন লিমা। পরে কুড়ানি ফেরত দিতে গিয়ে বাসায় না পেয়ে শাশুড়ি ও
ননদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শিপন বাসায় এলে পরিস্থিতি
আরও উত্তপ্ত হয় এবং এরপরই হত্যার ঘটনা ঘটে।
রায়হানের অভিযোগ, দীর্ঘ পাঁচ
বছর ধরে শিপন তার বোনকে নির্যাতন করে আসছিলেন। তবে নিজের পছন্দে বিয়ে করার
কারণে লিমা এসব বিষয় পরিবারকে জানাতেন না। তার দাবি, শিপনসহ পরিবারের
সদস্যরা মিলে লিমাকে হত্যা করেছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শরিফ ইবনে আলম জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে
পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই রায়হান
বাদী হয়ে স্বামী শিপনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শিপনের বোন রবি আক্তার এবং তার বড় ভাই রিপনের
স্ত্রী সুমি আক্তারকে পুলিশ ধর্মসাগরপাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে
গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। অন্য
আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
