কুমিল্লার
দেবিদ্বারে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিহত আলাউদ্দিনের পরিবারকে খাদ্য
সহায়তা দিয়েছে দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো.
আবদুস সালাম ভূঁইয়া ছেলে অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান ভূঞা।
শনিবার (১৭
জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে নিহত
আলাউদ্দিনের বাড়ির তার বাবা মো.সুলতান আহমেদ ও স্ত্রী রাজিয়া আক্তারের হাতে
এ সহায়তা তুলে দেয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান
মো.জয়নাল আবেদীন, প্রবাসী মো. আরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।
অ্যাডভোকেট
মাহমুদুল হাসান ভূঞা বলেন, অটোচালক আলাউদ্দিন অত্যান্ত নিরীহ প্রকৃতির
মানুষ ছিলেন। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ঘাতকরা। আজকে তার তিনটি
শিশুসন্তান, তার মা-বাবা ও স্ত্রী অসহায় অবস্থায় আছে। আলাউদ্দিনের রোজগার
দিয়েই তাঁর পুরো পরিবার চলত। আমরা গ্রামবাসী আলাউদ্দিনের পরিবারের পাশে
দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই হত্যাকাণ্ডের জড়িত তিনজকে গ্রেপ্তার করেছে
পুলিশ। আমি আদালতে এ মামলাটি শক্তভাবে লড়ব। যাতে করে এই ঘাতকদের সর্বোচ্চ
শাস্তি নিশ্চিত হয়। আমরা এই শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছি।
স্থানীয়
ইউপি সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, আমরাও স্থানীয় পর্যায়ে চেষ্টা করছি
আলাউদ্দিনের পরিবারের জন্য কিছু করার। তার বসবাসের ঘরটি অত্যান্ত ভাঙাচোরা,
গ্রামের প্রবাসীরা তাকে একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা
হচ্ছে।
নিহত আলাউদ্দিনের বাবা মো.সুলতান আহমেদ বলেন, ছেলেকে হারানোর পর
আমরা অসহায় অবস্থায় আছি, গ্রামের মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তারা
বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করছে। প্রসঙ্গত, গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাড়ি
থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হয় আলাউদ্দিন। এরপর রাতে তার আর খোঁজ মেলেনি।
মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে তাঁর পরিবার।
কোথাও না পেয়ে ৪ জানুয়ারি দেবিদ্বার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন
আলাউদ্দিনের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার। এরপর নিখোঁজের ১২ দিন পর গত সোমবার
সকালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন হিরাপুর এলাকার
বুড়ি নদীর কুচুরিপানার ভেতর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
