ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে
উঠেছে কুমিল্লা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে নগরীর টমছম ব্রিজ
এলাকায় এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজ
শেষে টমছম ব্রিজ কেন্দ্রীয় মসজিদে নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া
ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ও সাধারণ মুসল্লিরা
লাকসাম রোডে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এসময় মিছিল থেকে ‘নারায়ে
তাকবির’, ‘গোলামি না আজাদি’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ এবং ‘দিল্লি না ঢাকা,
ঢাকা ঢাকা’সহ বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীরা
স্লোগান দেন— ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’।
সমাবেশে
বক্তারা বলেন, "শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের
এক আপসহীন নেতা। তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে
কোনো ধরনের টালবাহানা বা ‘ক্রসফায়ারের নাটক’ সাধারণ ছাত্র-জনতা মেনে নেবে
না।"
বক্তারা আরও বলেন, আপনারা ছাত্রদের রক্তের সাথে বেইমানি করবেন না।
অনতিবিলম্বে খুনিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা নির্বাচন বানচাল করতে চাই না, আমরাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। তবে
যারা হাদি ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেবে,
ছাত্র-জনতা তাদেরই ভোট দেবে।"
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা
বিশ্ববিদ্যালয় ইনকিলাব মঞ্চের যুগ্ন আহবায়ক ফারুক আল নাহিয়ান, কুমিল্লা
মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল হাসান, আপ বাংলাদেশ
কুমিল্লা জেলা আহবায়ক হাসিবুল ইসলাম, আপ বাংলাদেশ কুমিল্লা মহানগর আহবায়ক
ডাঃ লোকমান হোসাইনসহ সাধারণ মানুষ।
এর আগে, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর
রাজধানীর বিজয়নগরে নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে চলন্ত রিকশায়
সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার
অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
