নিজস্ব
প্রতিবেদক: রাজধানীর উত্তরায় আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাবা-মা ও
সন্তানকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দাফন করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার
দিকে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের চিওড়া কাজী বাড়িতে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে
তাদের দাফন করা হয়।
শুক্রবার সকালে উত্তরায় আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৬
জন নিহত হন। এর মধ্যে কুমিল্লার তিনজন। তারা হলেন- উপজেলার চিওড়া কাজী
বাড়ির কাজী খোরশেদ আলমের ছেলে কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), রাব্বির স্ত্রী
আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের দুই বছরের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান।
পারিবারিক
সূত্রে জানা যায়, কাজী ফজলে রাব্বীর প্রথম স্ত্রী তিথী প্রায় দুই বছর আগে
আকস্মিক অসুস্থতায় মারা যান। পরিবার ও আত্মীয়দের অনুরোধে তিনি পুনরায় বিয়ে
করেন তিথীর বান্ধবী আফরোজা বেগম সুবর্ণাকে। তাদের সংসারে জন্মগ্রহণ করে
কাজী ফাইয়াজ রিশান। রাব্বী এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে চাকরি করতেন।
আর তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র
এক্সিকিউটিভ ছিলেন। অফিস যাওয়ার আগে ছেলে রিশানকে উত্তরার নানার বাসায় দিয়ে
যেতেন তারা।
রাব্বীর ফুফাতো ভাই কাজী নাহিদ বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস
বলেছে, ভবন মালিক ছাদের দরজা তালা দিয়ে রেখেছিলেন। তালা না থাকলে আগুনের
সময় তারা উপরে গিয়ে জীবন রক্ষা করতে পারতেন। অবহেলায় এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া
কঠিন।’ তিনি বলেন, ‘দুই মাস আগে রাব্বি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়িতে এসে
দুদিন থেকে ঢাকায় চলে যান। স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের এভাবে মৃত্যু হবে,
আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। তাদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে
এসেছে। শুক্রবার বিকালে ঢাকায় জানাজা শেষে মরদেহ রাতেই কুমিল্লায় নানুয়ার
দিঘীরপাড়ের বাসায় আনা হয়। রাত ১০টায় দারোগা বাড়ি জামে মসজিদে দ্বিতীয়
জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।’
শুক্রবার সকালে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর
সড়কের ৩৪ নম্বরের যে বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সেটির পঞ্চম তলায় ফজলে
রাব্বি রিজভী দম্পতি ভাড়া থাকতেন। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা
গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনাস্থল থেকে ১৬ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে
পাঠায় ফায়ার সার্ভিস। তাদের মধ্যে রাব্বি ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ ছয়জনের
মৃত্যু হয়।
