শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
৩ মাঘ ১৪৩২
অন্তিম মুহূর্তে যে উপদেশ দিয়েছিলেন নুহ (আ.)
মুফতি ইফতেখারুল হক হাসনাইন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫০ এএম |



আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত একদিন আমরা রাসুলুল্লাহর (সা.) এর কাছে বসে ছিলাম। রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহর নবী নুহ (আ.) যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তিনি তার ছেলেকে বললেন, আমি আমি তোমাকে দুটি নির্দেশ দিচ্ছি এবং দুটি কাজ করতে নিষেধ করছি।
আমি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি:
১. ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-কে আঁকড়ে ধরো। কারণ সাত আসমান ও সাত জমিন যদি এক পাল্লায় রাখা হয় আর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অন্য পাল্লায় রাখা হয়, তবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সব কিছুর চেয়ে ভারী হবে। আর যদি সাত আসমান ও সাত জমিন একটি বন্ধ আংটির মতো হয়, তবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তা ভেঙে ফেলবে।
২. ‘সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’-কে আঁকড়ে ধরো। এই জিকির সমস্ত সৃষ্টিজীবের নামাজ এবং এর মাধ্যমে সৃষ্টিজীব রিজিক পায়।
আর আমি তোমাকে নিষেধ করছি:
১. শিরক থেকে।
২. অহংকার থেকে।
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, শিরক কী তা তো আমরা জানি। কিন্তু অহংকার কী? এটা কি এই যে আমাদের কারো সুন্দর জুতা থাকবে, তাতে সুন্দর ফিতা থাকবে?
রাসুল (সা.) বললেন, না।
আমি বললাম, এটা কি এই যে আমাদের কারো সুন্দর পোশাক থাকবে?
রাসুল (সা.) বললেন, না।
আমি বললাম, এটা কি এই যে আমাদের কারো আরোহণ করার মত উট বা ঘোড়া থাকবে?
তিনি বললেন, না।
এটা কি এই যে আমাদের অনুসারী থাকবে যারা আমাদের কথা শোনার জন্য আসবে?
তিনি বললেন, না।
কেউ বললো, তাহলে অহংকার কী হে আল্লাহর রাসুল!
রাসুল (সা.) বললেন, অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা। (মাজমাউয-যাওয়ায়েদ)
হজরত নুহ (আ.) মানবজাতির কাছে প্রেরিত আল্লাহ তাআলার একজন সম্মানিত নবী ও রাসুল। আল্লাহ তাআলা তাকে এমন এক জাতির কাছে পাঠিয়েছিলেন যারা শিরকসহ বিভিন্ন পাপ ও অন্যায় কাজে লিপ্ত ছিল। আল্লাহ তাআলার নির্দেশে তিনি তাদেরকে শিরকসহ সব পাপাচার থেকে বিরত থাকার এবং আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস স্থাপন করার দাওয়াত দেন। তাদের হেদায়াতের জন্য তিনি দীর্ঘকাল ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু তার জাতির বেশিরভাগ মানুষ ইমান আনেনি।
এক পর্যায়ে তিনি নিজের জাতির বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। ফলে আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আল্লাহর নির্দেশে তিনি একটি নৌকা তৈরি করেন এবং এক মহাপ্লাবন ঘটে। ওই মহাপ্লাবনের পরে পৃথিবীতে শুধু হজরত নুহ (আ.) ও তার নৌকার আরোহী ইমানদার কিছু মানুষ বেঁচে থাকেন। বাকি সবাইকে আল্লাহ তাআলা ধ্বংস করে দেন।
কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা হজরত নুহের (আ.) কথা বলেছেন, তার প্রশংসা করেছেন। তার দাওয়াত, প্রচেষ্টা ও তার জাতির অবাধ্যতা, আল্লাহর শাস্তিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বিস্তারিত বিবরণ এসেছে কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লায় বিএনপির বিদ্রোহ প্রশমনে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ
কর্মসংস্থানের মাধ্যমে কুমিল্লাকে এগিয়ে নিতে চাই- দ্বীন মোহাম্মাদ
ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
দেবিদ্বারে রুবেল হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
মেঘনায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় বিএনপির বিদ্রোহ প্রশমনে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ, সমন্বয়কের দায়িত্ব পেলেন হাজী ইয়াছিন
কুমিল্লায় আসছেন তারেক রহমান
দাউদকান্দিতে স্বামীর বাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইউএনও ফেরদৌস আরা
ঋণ পরিশোধ করেছেন মঞ্জুরুল মুন্সী, মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ
ঘাতক স্বামী চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২