ঋতুর
পরিবর্তন আল্লাহ তাআলার কুদরতের এক অপূর্ব নিদর্শন। প্রতিটি ঋতুর মাঝেই
মানুষের জন্য রয়েছে বিশেষ শিক্ষা ও কল্যাণ। শীতকাল তেমনই এক বরকতময় ঋতু, যা
ইসলামের দৃষ্টিতে মুমিনদের জন্য ইবাদতের বিশেষ সুযোগ বয়ে আনে। এ কারণেই
শীতকালকে বলা হয়-মুমিনদের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল।
আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে বলেন-“তিনি তোমাদের জন্য রাত ও দিনকে বশীভূত করেছেন।”(সূরা ইবরাহীম: ৩৩)
রাত
ও দিনের এই পরিবর্তনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে ইবাদতের সুবর্ণ সুযোগ। শীতকালে
রাত দীর্ঘ হয়, দিন সংক্ষিপ্ত হয়-যা নফল ইবাদত ও রোজার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
রাসূলুল্লাহ (সা:) শীতকালের ইবাদতের বিশেষ ফযিলতের কথা উল্লেখ করে বলেন-“শীতকালে রোজা রাখা হলো ঠাণ্ডা গনীমত।”(সুনান তিরমিজি)
এখানে
‘ঠাণ্ডা গনীমত’ বলতে বোঝানো হয়েছে-এমন এক সওয়াব, যা কষ্ট ছাড়াই অর্জন করা
যায়। গ্রীষ্মকালে রোজায় পিপাসা ও ক্লান্তি বেশি অনুভূত হলেও শীতকালে তা
তুলনামূলক কম হয়। ফলে অল্প কষ্টে অধিক সওয়াব অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
শীতকালের
আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘ রাত। দীর্ঘ রাত কিয়ামুল লাইল, তাহাজ্জুদ ও
নফল নামাজের জন্য এক অনন্য সুযোগ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে মুত্তাকিদের গুণ
বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন-“তারা রাতের সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত।”
(সূরা আয-যারিয়াত: ১৭)
সালাফে সালেহিন শীতকালকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। প্রসিদ্ধ তাবেয়ি হযরত হাসান বসরি (রহ.) বলেন-
“শীতকাল মুমিনের বসন্তকাল। তার রাত দীর্ঘ-সে তাতে নামাজ আদায় করে; তার দিন ছোট-সে তাতে রোজা রাখে।”
বসন্ত
যেমন প্রকৃতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে, তেমনি শীতকাল একজন মুমিনের ঈমানি
জীবনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। এ সময় নফসের চাহিদা কম থাকে, প্রবৃত্তির
টান দুর্বল হয় এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা তুলনামূলক সহজ হয়। ফলে আত্মশুদ্ধি
ও তাকওয়া অর্জনের পথ সুগম হয়।
শীতকাল আমাদেরকে কেবল বেশি ইবাদতের
সুযোগই দেয় না, বরং আল্লাহর নেয়ামতের কদর করতেও শেখায়। শীতার্ত মানুষের
কষ্ট অনুভব করে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, শীতবস্ত্র দান করা এবং মানবসেবায়
এগিয়ে আসাও এই মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
পরিশেষে বলা যায়, শীতকাল
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য এক বিশেষ অনুগ্রহ। যে ব্যক্তি এই
সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে-রোজা, তাহাজ্জুদ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও
দোয়ার মাধ্যমে-সে অল্প কষ্টে অধিক সওয়াব অর্জনে সফল হয়। প্রকৃত মুমিন সেই,
যে প্রতিটি ঋতুকে আখিরাতের পাথেয় বানাতে সচেষ্ট থাকে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শীতকালকে ইবাদতের বসন্তকাল হিসেবে গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখকঃসহকারী শিক্ষক, পীরযাত্রাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বুড়িচং, কুমিল্লা।
