প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫০ এএম আপডেট: ১৬.০১.২০২৬ ১:২৭ এএম |
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ তীব্র উত্তেজনা ও বিদ্রোহী পরিস্থিতি প্রশমনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার উদ্যোগে কুমিল্লার সবচেয়ে আলোচিত সদর আসনের বিদ্রোহ কার্যত নিমিষেই প্রশমিত হয়েছে। একই সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করার বার্তাও দিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকাল পৌনে চারটায় ঢাকার গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সদর আসনের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিনের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টা বৈঠক করেন তারেক রহমান।
বৈঠক শেষে হাজী ইয়াছিনকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির অধীন সাতটি সংসদীয় আসনের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে এসব আসনের সাংগঠনিক তদারকি ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব এখন আনুষ্ঠানিকভাবে তার ওপর ন্যস্ত হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজিব এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছিল যে, দলের শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিদ্রোহ প্রশমনে হাজী ইয়াছিনকে নিয়ে বিশেষ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে, যখন বৈঠকের একটি ছবি এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সকল সংসদীয় আসনে হাজী ইয়াছিনকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
চিঠি প্রকাশের পরপরই কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয় এবং নির্বাচনী উত্তাপ অনেকটাই প্রশমিত হতে থাকে। বিশেষ করে সদর আসনের বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে পার্শ্ববর্তী আসনগুলোতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে না থাকায় কুমিল্লায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহীরাই উত্তাপের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। সদর আসনের বাইরে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা এবং নাঙ্গলকোট আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া মোবারশের আলম ভূঁইয়াকে ঘিরে এখনো কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কৌশলী ভূমিকা ও রাজনৈতিক প্রভাবেই সদর আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ কারণে মনোনয়ন না পেয়ে হাজী ইয়াছিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ওই সময় সদর আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে হাজী ইয়াছিনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আওতাধীন আসনগুলোতে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত হবে-এই প্রত্যাশা করি।”
এদিকে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন সব ক’টি আসনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর সদরের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিবেন বলে জানা গেছে।