শুক্রবার ৯ জানুয়ারি ২০২৬
২৬ পৌষ ১৪৩২
প্রতিদিন ইস্তিগফার পাঠের ফজিলত
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৯ এএম |



ইসলামে ক্ষমা প্রার্থনা বা ইস্তিগফারের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। নিষ্পাপ ও গুনাহমুক্ত হওয়া সত্ত্বেও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দিনে ১০০ বারেরও বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করতেন আল্লাহর কাছে। 
বিভিন্ন সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইস্তিগফারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এক হাদিসে তিনি বলেন, হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো। আল্লাহর কসম, আমি নিজেই দিনে ১০০ বারের বেশি আল্লাহর কাছে তওবা ও ক্ষমা চাই। 
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, কোনো কোনো দিনে তিনি ৭০ বারেরও বেশি ইস্তিগফার করতেন। হাদিসবিদরা বলেন, বিভিন্ন সময় ও অবস্থার ভিত্তিতে এই সংখ্যার তারতম্য হতে পারে।
প্রশ্ন জাগে, যিনি আল্লাহর প্রিয় নবী, যার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে, তিনি কেন এত বেশি ইস্তিগফার করতেন? আলেমদের ব্যাখ্যায় জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইস্তিগফার ছিল মূলত উম্মতের জন্য শিক্ষা ও অনুশীলনের পথনির্দেশ। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক সব সময় ক্ষমা প্রার্থনা ও বিনয়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা উচিত।
ইস্তিগফার শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়, বরং এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম উপায়। মহানবী (সা.) সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও নিজের ইবাদতে কখনো তৃপ্ত হননি। বরং তিনি সব সময় আল্লাহর কাছে আরও বেশি নৈকট্য কামনা করতেন। ইস্তিগফারের মাধ্যমে তিনি আল্লাহর দরবারে নিজের বিনয় ও দাসত্ব প্রকাশ করতেন।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, ইস্তিগফারের আরেকটি তাৎপর্য হলো, মানুষের জীবনে প্রতিনিয়ত যে অনিচ্ছাকৃত ভুল, গাফিলতি বা ত্রুটি ঘটে, সেগুলোর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। নবীজি (সা.) উম্মতের পক্ষ থেকেও ইস্তিগফার করতেন বলে অনেক আলেম মনে করেন। তার এই আমল উম্মতের জন্য রহমত ও নিরাপত্তার কারণ ছিল।
পবিত্র কোরআনেও ইস্তিগফারের ফজিলত স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইস্তিগফার শুধু আখিরাতের মুক্তির পথ নয়, বরং দুনিয়াবি কল্যাণেরও মাধ্যম।
বর্তমান সময়ের মুসলমানদের জন্য মহানবী (সা.)-এর এই আমল বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। ব্যস্ততা, গাফিলতি ও পাপাচারের ভিড়ে মানুষ সহজেই আল্লাহকে ভুলে যায়। অথচ নবীজি দেখিয়ে দিয়েছেন, ব্যস্ততম জীবনেও আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার পথ খোলা রাখতে হবে।
আলেমরা বলেন, নিয়মিত ইস্তিগফার মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, অহংকার ভেঙে দেয় এবং আল্লাহর ওপর ভরসা বাড়ায়। দিনে নির্দিষ্ট সংখ্যা না হলেও নিয়মিত ক্ষমা প্রার্থনার অভ্যাস গড়ে তোলা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিনে ১০০ বারের বেশি ইস্তিগফার করার এই সুন্নাহ মুসলমানদের মনে করিয়ে দেয়, আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমেই একজন বান্দা তার রবের রহমত, শান্তি ও মুক্তির পথে এগিয়ে যেতে পারে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লার আসনে-আসনে বিএনপিতে অস্থিরতা
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট কুমিল্লায় ভোটের সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে
ঋণ খেলাাপীদের ঘুম হারাম করে ছাইড়া দেব : হাসনাত আব্দুল্লাহ
কুমিল্লার ১১ আসনে প্রার্থীতা বাতিল ও বৈধতার বিরুদ্ধে ২০ আপিল
কুমিল্লা-১ ও ২ সংসদীয় আসন আগের মতো পুনর্বহালের নির্দেশ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী ঋণ খেলাপি, নির্বাচন করতে পারবেন না
কুমিল্লার এসপির বিরুদ্ধে জামায়াতের অভিযোগ
কুমিল্লায় ওসমান হাদির গ্রাফিতিতে কালো রঙ লেপন
কুমিল্লার আসনে-আসনে বিএনপিতে অস্থিরতা
কাজ না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা, প্রকৌশলীকে হুমকি
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২