মুন্সিগঞ্জের
সিরাজদিখান ও শ্রীনগর উপজেলার আড়িয়াল বিল সংলগ্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই গড়ে
ওঠা বেসরকারি আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে
বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি
বলেন, ভবিষ্যতেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও
ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের
দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মুন্সিগঞ্জ-১
আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য
জানান। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয়
গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসন, মাঠ প্রশাসন এবং নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে আড়িয়াল বিল সংলগ্ন এলাকায় অনুমোদনহীন ডেভেলপার
কোম্পানির প্রকল্প বন্ধে বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা
হয়েছে।
তিনি জানান, অনিবন্ধিত ও অননুমোদিত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাছ
থেকে জনসাধারণ যাতে প্লট বা ফ্ল্যাট ক্রয় না করেন, সে বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন
কর্তৃপক্ষ নিয়মিত জাতীয় দৈনিকে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কোনও
নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের শর্ত লঙ্ঘন করলে তাদের নিবন্ধন বাতিলসহ বিধি
অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জাকারিয়া তাহের বলেন, সরকার কৃষিজমি,
জলাভূমি ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যেই আড়িয়াল বিল
সংলগ্ন এলাকায় অনুমোদনহীন আবাসন প্রকল্প, কৃষিজমি ভরাট এবং অবৈধ দখল রোধে
জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো
আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিজমি ও জলাভূমি ভরাট,
ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন কিংবা আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বালুমহাল ও
মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অনুমোদন ছাড়া কোনও আবাসন কোম্পানি
প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে তদন্ত, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জরিমানা,
নির্মাণকাজ বন্ধ এবং প্রয়োজন হলে মামলা দায়েরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গৃহায়নমন্ত্রী
জানান, আড়িয়াল বিলের পরিবেশগত ভারসাম্য ও জলাধার সংরক্ষণের স্বার্থে
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি
বলেন, ‘‘কোনও এলাকায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও
ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের
বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
