কুমিল্লা
নগরীতে মাদক কারবারিদের নৃশংস গুলিতে ইথান আহমেদ (১২) নামে এক কিশোর
গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো শহর। অপরাধীদের দ্রুত
গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার বিকেলে নগরীতে এক বিশাল
মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭
জুন) বিকেল ৪টায় ‘মাদকবিরোধী জোট’-এর উদ্যোগে নগরীর তেলিকোনা চৌরাস্তায় এই
কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে এলাকার শতশত
সাধারণ মানুষ, ছাত্রসমাজ, স্থানীয় সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন এবং রাজনৈতিক
নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান বক্তা
হিসেবে ‘ফেইস দ্য পিপল’-এর সম্পাদক সাইফুর রহমান সাগর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ
করে বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে এই বিপ্লব কুমিল্লা থেকে সারা
বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আমাদের সমাজকে নষ্ট করার অধিকার কোনো মাদক
কারবারির নেই। এই মাদক সিন্ডিকেটের পেছনে যেসব প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ জড়িত
আছেন, তাদের চেহারাও জনসম্মুখে আনা হবে।
তিনি প্রশাসনের ভূমিকার
সমালোচনা করে বলেন, মাদকবিরোধী এই গণআন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর
আরও সক্রিয় সহযোগিতা কাম্য ছিল। একই সাথে তিনি আগামী তিন দিনের মধ্যে ইথান
আহমেদকে হত্যাচেষ্টাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর ও বৃহত্তর
কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কুমিল্লায় ইদানীং
মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য চরম সীমায় পৌঁছেছে। তাদের সিন্ডিকেট এতটাই
বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, এখন প্রকাশ্য দিবালোকে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি
চালাতেও তারা দ্বিধাবোধ করছে না। ইথানের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা প্রমাণ করে
যে, মাদক ব্যবসায়ীরা পুরো সমাজকে জিম্মি করতে চায়। বক্তারা অনতিবিলম্বে
চিহ্নিত মাদক সম্রাট ও তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
'আমরা
আর কোনো মায়ের বুক খালি হতে দেব না'- এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে আন্দোলনকারীরা
প্রশাসনকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম
দেন। অন্যথায় কুমিল্লাবাসীকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের
ঘোষণা দেওয়া হয়। সমাবেশ থেকে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা ও নগরীর ভেতরের
প্রধান মাদক চোরাচালান রুটগুলো বন্ধ করার জন্য জেলা পুলিশ ও র্যাবের প্রতি
জোর আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের
করা হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত
বক্তব্যের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
