নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা নগরীর কাটাবিলে মাদকবিরোধী মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের বাড়িঘরে দুর্বৃত্তদের হামলা ও গুলির ঘটনায় মামলার পর শ্রাবণ নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাটাবিল এলাকা থেকে একটি বিদেশী পিস্তল এবং ৬ রাউন্ডগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তের শ্বশুর বাড়ি থেকে ২ হাজার ৪ শত ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির আনুমানিক ৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কোতয়ালী থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার। ওসি আরো জানান, এখনো অভিযান চলছে। গোপনীয়তার স্বার্থে অনেক কিছু বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার দিন বৃহষ্পতিবার রাতেই এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেমের (১২) বাবা ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সাব্বির ও অপুসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও ১২ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
এদিকে ঘটনার দুই দিন পার হলেও ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) ভর্তি গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র প্রেমের শরীর থেকে এখনও গুলি বের করা যায়নি বলে জানিয়েছেন তার বাবা ইউনুস মিয়া। তিনি আজ মুঠোফোনে বলেন, কুমিল্লায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা গুলি বের করতে না পারায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছেলেকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গুলি বের করা হয়নি। চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
তবে ইথানের শরীর থেকে অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করা হবে তা এখনও তিনি জানেন না বলেও জানান ইউনুস।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে কাটাবিল এলাকা পরিদর্শনে যান কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম। পরে রাতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বিশেষ সভা করেন। আজ শুক্রবার এমপি মনিরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, গত রাতে গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলাম। এমপি হিসেবে আমি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ঘটনার দায় এড়াতে পারি না। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রাতেই জরুরি সভা করেছি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়া নিয়ে কাঁটাবিল এলাকায় গত বুধবার রাতে অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকার প্রতিবাদী লোকজনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কাটাবিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাদকবিরোধী মানববন্ধন হয়।
মানবন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজন জানান, দুপুরে হঠাৎ অস্ত্র হাতে একদল লোক মানববন্ধনের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় তারা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটালে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ছোটাছুটি করেন। সংঘর্ষ চলাকালে ইথান আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
গুলিবিদ্ধ ইথান কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। স্কুলের শিক্ষকদের ভাষ্য, টিফিনের বিরতিতে ইথান বাসায় যাচ্ছিল। তার বাবা ইউনুস মিয়া নগরীর সিটি পার্কের একটি রাইডের কর্মচারী।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরও ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত রাতে একজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে।
কুমিল্লায় মাদক বিরোধী মানববন্ধন:
কুমিল্লার কাটাবিলে বিরোধী মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের বাড়িঘরে হামলা ও সে সময় ষষ্ঠ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন করেছে মাদক বিরোধী জোট। শনিবার বিকেলে কুমিল্লা নগরীর টেলিকোনা মোড়ে এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন গণমাধ্যম কর্মী, রাজনৈতিক -সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ। এর আগে শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার পূবালী চত্বরে মাদকবিরোধী সমাবেশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি নেতাকর্মীরা। এছাড়াও টাউন হলে সামনে শুক্রবার বিকেলে মাদকবিরোধী মানববন্ধন করে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর যুব শাখা।
