
নিজস্ব
প্রতিবেদক।। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি,
অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে সরাসরি অভিযোগের মুখে
পড়লেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকার মো. শাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালে ভর্তি এক
রোগীর স্বজন মন্ত্রীর কাছে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরলে তিনি ধৈর্যসহকারে
অভিযোগ শোনেন এবং পরিস্থিতির উন্নয়নের আশ্বাস দেন।
সোমবার (২৫ মে) সকালে
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুমিল্লা সদর জেনারেল হাসপাতাল
পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা সদর
জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
পরিদর্শনের
সময় গাইনি ইউনিটে ভর্তি থাকা এক রোগীর স্বজন মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করে
বলেন, তিন দিন আগে তার বোনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার জন্য কয়েক
ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হলে তিনি একটি ব্যাগ সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে
আরও একটি ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করতে গিয়ে তার মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে
যায়। হাসপাতালে ফোন চার্জ দিতে গেলে সেখানে দায়িত্বরত এক কর্মচারী তার
সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া হাসপাতালের
অপরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই স্বজন। তিনি
অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের দেওয়া বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের মেশিন বিকল
থাকায় রোগীদের বাইরে আজাদ মেডিকেলসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে
পাঠানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “আজ
হাসপাতালে পরিদর্শনের আগে যদি আপনার পরিবারের কাউকে সাধারণ রোগীর স্বজন
হিসেবে পাঠানো হতো, তাহলে বাস্তব চিত্র আরও ভালোভাবে বুঝতে পারতেন। আপনি
আসবেন বলে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। কিন্তু স্বাভাবিক দিনে
পরিস্থিতি এমন থাকে না।
অভিযোগগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার পর
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, অতীতে স্বাস্থ্যখাতে
যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে। তিনি দাবি করেন,
বিশেষ করে অন্তর্র্বতীকালীন সময়ে এ খাতে বেশি দুর্নীতি হয়েছে। তবে আসন্ন
বাজেটে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিকল যন্ত্রপাতি মেরামত ও
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ধীরে
ধীরে এসব সমস্যার সমাধান করে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা
হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
