বুধবার ১০ জুন ২০২৬
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সরকারি সিরিঞ্জ থেকে এমআরআই-
কিছুই নাই কুমিল্লা মেডিকেলে!
তানভীর দিপু।।
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৪৪ এএম আপডেট: ২৫.০৫.২০২৬ ১:৪৯ এএম |

 কিছুই নাই কুমিল্লা মেডিকেলে!

কুমিল্লা অঞ্চলের সবচেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসালয়ে বিনামূল্যের ঔষধ ও সরঞ্জামের চরম সঙ্কট। সাধারণ রোগীদের সিরিঞ্জ থেকে শুরু করে এমআরআই পরীক্ষার ফিল্ম পর্যন্ত মজুদ শেষ হাসপাতালটিতে। প্রতি অর্থবছরের জুন মাস থেকে জুন মাসে টেন্ডার হবার কথা থাকলেও হাসপাতালটির কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এবার টেন্ডারের দুই মাস আগে থেকেই ঔষধ সঙ্কটে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নতুন বরাদ্দপত্র দিয়ে টেন্ডার করে ঠিকাদার ঠিক হবার পর যতদিন না এসব ঔষধ আসছে ততদিনে কোটি কোটি টাকার ঔষধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনতে হবে রোগীদের। এই হাসপাতাল থেকে দৌড়ে যেতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। অথচ এই হাসপাতালে এসব ঔষধ ও সরঞ্জাম বিনামূল্যে কিংবা ভর্তুকি মূল্যে দিচ্ছে সরকার। সম্প্রতি হাসপাতালে ঔষধ কেনাকাটা নিয়ে সাবেক পরিচালকের দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শয্যা সঙ্কটকে পুঁজি করে হাসপাতালটির চরম অব্যবস্থাপনার কারণেই ঔষধের এই সঙ্কট দেখা দিয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনিয়ম অবহেলার কারণে ভুক্তভোগী হচ্ছে নিম্ন আয়ের সেবাপ্রার্থীরা।
 কিছুই নাই কুমিল্লা মেডিকেলে!
আন্তঃবিভাগে নেই বিশ পদের অতিজরুরী জীবন রক্ষাকারী ঔষধ:
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাম্পাসে কথা হয় বুড়িচংয়ের কোরপাই এলাকার শ্রমিক ফারুকের সাথে। বুকের হাড় ভেঙ্গে নিমসার সবজি বাজারের শ্রমিক ফারুক ১৮দিন ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। চিকিৎসা নিয়ে ১১ মে সকালে বাড়ি ফেরার পথে কথা হলে জানান, প্রাইভেটে গেলে অনেক বেশি খরচ হতো তাই সরকারি হাসপাতালে আসলাম কিন্তু তার কোন কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। বাইরে যেটা ৭০ হাজার টাকা লাগতো সেটি এখানে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। তো লাভ কি হলো? শুধু একটি প্যারাসিটামল ও গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ পাচ্ছি। ২২ দিন এখানে ছিলাম আমার সবকিছুই বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে যে দুটি সুতা রেখে এসেছিলাম পর দিন সেটিও পরে পাইনি। আমরা যে সুবিধার জন্য সরকারি হাসপাতালে আসছি তার কিছুই পাচ্ছিনা। ঔষধ বড়ি যা কিছু আছে সবই হাসপাতালে পর্যাপ্ত আছে বলে জানি, তাও কেন আমরা পাচ্ছি না। এই ওষুধগুলো কারো না কারো মাধ্যমে হয়তো পাচার হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসক প্রেস্ক্রিপশন লিখে দেওয়ার পর ঔষধ কোম্পানির লোকজন সেগুলো আবার ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তারা সেখানে দেখছে তাদের কোম্পানির ওষুধগুলো লিখছে কিনা। 
একই সময় কথা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে আসা মাসুদ ভুইয়ার সাথে। দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত মা মাজেদা খাতুনকে নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসে ৫ দিন ধরে ভর্তি আছেন সার্জারি বিভাগে তিনি জানান, দুইটা এক্সরে করিয়েছি ৪শ টাকা নিয়েছে - এটা ঠিক আছে। কিন্তু বাকি সব আমাকে বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। প্লাস্টার করানোর জন্য পনেরশো টাকা বিল ধরেছে। আমি সরকারের কাছে জানতে চাই সবকিছুতে যদি বাইরে থেকে কেনা লাগে ওষুধ থেকে ব্যান্ডেজ এর গজ পর্যন্ত - তাহলে সরকারি হাসপাতালে এসে আমাদের লাভ কি। 
একই দিন হাসপাতালের তিনটি স্টোররুম ঘুরে দেখা যায়, সেগুলো সিলগালা করে তালাবদ্ধ। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টোর কিপার শ্যামল কান্ত রায় জানান, আন্তঃবিভাগে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে দেয়া ১৩টি ঔষধ শেষ। ৭টি ঔষধের পরিমানও একেবারে তলানিতে। তবে বেশির ভাগই অপারেশন সংশ্লিস্ট ঔষধও সরঞ্জাম দেয়া যাচ্ছে না রোগীদের।
তিনি জানান, রহল. াধপঁৎড়হরঁস নৎড়সরফ ১০সম(হড়ৎ ছ), ঐুফৎড়পড়ৎঃরংড়হব ১০০সম, অহড়ীধঢ়ৎরহব ৬০সম, ঋষঁপষড়ীধপরষষরহ ৫০০সম, টষঃৎধপধরহ ০.৫%, ঝীঁধসবঃযধহরঁস ২বব, ঘবঁংঃরমসবঃ ০.৫ সম, ঊভফৎরহব ঐুফৎড়পষড়ৎড়ফব ২সষ, ঞবহড়সধীরপ অপরফ, শবঃধসরহ ১০সষ, ওসরঢ়বহধঁস+ঈরষধংঃধঃরষ ৫০০সম, ধফৎড়হধষরহ, ঞধন. ঘবঁৎড়-ই(ংঁষনরঁস) ঔষধগুলো একেবারেই মজুদ নেই।
প্যাথলজিতে সঙ্কট সিরিঞ্জের- ফিল্ম নাই রেডিওলজিতে: 
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে সরকারি মূল্যে অন্তত ৫০ টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। যেসব পরীক্ষা বেসরকারি হাসপাতালে গেলে তিন থেকে সাতগুণ পর্যন্ত খরচ বেড়ে যায়। তবে পরীক্ষার মান ভালো হওয়ায় প্যাথলজি সেবার চাহিদা বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে সিরিঞ্জ এবং কীট সঙ্কটে এসব পরীক্ষা নেমে এসেছে ৩০ শতাংশে। আন্ত বিভাগে ভর্তি থাকা অস্ত্রোপাচারের যেসব রোগী রয়েছে তাদের তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষা নিয়মিত নিয়মিত থাকলেও বহির্বাদ থেকে আসার রোগীদের পরীক্ষা অনেকটাই কমে গেছে। ঋবৎৎরঃরহ, ঞ৪, ঞ৩, ঞঝঐ এর মত পরীক্ষাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, স্টোর থেকে যা সিরিঞ্জ পাই তাতেই কাজ চালাতে হয়। কীট আর হরমোন রি- এজেন্টেরর সঙ্কট আছে। 
এমআরআই বিভাগের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আল মামুন বলেন, এমআরআই ফিল্ম শেষ। কোন রকমে চলছে। প্রতিদিন মাত্র ১০ টি এমআরআই করা যাচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এমআরআই পরীক্ষার জন্য খরচ হয় অন্তত ৬ হাজার টাকা যা এই হাসপাতালে করা যায় মাত্র তিন হাজার টাকায়। লোকবল না থাকায় তিন বেলার মধ্যে একবেলা ব্যবহার হচ্ছে মেশিনটি। 
এদিকে দুইটি এক্সরে মেশিনের মধ্যে ফিল্মের অভাবে একটি প্রায় অচল। এক্সরে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, প্রতিদিন গড়ে -১৫০ টি এক্সরে করার চাহিদা থাকলেও এখন হচ্ছে ৫০ টি। এখানে করালে ২০০ টাকা ও ২৫০ টাকায় রোগীরা সেবা পান, বাইরে করালে এই ব্যয় দ্বিগুন হয়ে যায়। 
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শাহ আলম জানান, থানা থেকে আসা কেইসগুলোর এক্সরে করা যায়। বাইরের আর কোন এক্সরে করা সম্ভব হচ্ছে না। দুই এক্সরে বিভাগে প্রতিদিন অন্তত ৬ শ এক্সরে পরীক্ষার চাহিদা থাকে।
হাম আইসোলেশনে নাই বেড- অক্সিজেন কনসেনট্রেটর : 
হাসপাতালটির যে পরিমাণ বেড আছে তার বিপরীতে প্রতিদিনই অন্তত দ্বিগুণ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। আন্ত বিভাগে বেড সংকট কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিত্য সমস্যা। তবে শিশু বিভাগে এই বেড সংকট প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর। বর্তমানে হামের আইসোলেশন ইউনিটে ৩০ বেডের বিপরীতে প্রতিদিন করে ৯০ জন রোগী ভর্তি থাকে। বিছানা না থাকায় ইউনিটের করিডোরে, বারান্দায় এবং সিঁড়ি ঘরের স্থান হয়েছে রোগীদের। চাটাই বিছিয়ে শক্ত মেঝেতেই চিকিৎসা চলছে শিশুদের। যেসব বেডগুলল দেয়া হয়েছে সেগুলোতেও স্যালাই ব্যাগ ঝুলানোর হ্যাঙ্গার নেই। 
আইসোলেশন ইউনিটে সবচেয়ে বেশি সংকট অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের। হাম ও উপসর্গ নিয়ে আসার যেসব রোগীরা শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়াতে ভোগে তাদের জন্য অতি জরুরী সরঞ্জাম অক্সিজেন কনসেনট্রেটোর ও শাকশন মেশিন। অথচ এই হাসপাতালটিতে যদি থাকে যে পরিমাণ অক্সিজেন কনসেনট্রেটর রয়েছে তা দিয়ে ত্রিশ শতাংশ রোগীর চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না। একই সাথে হাসপাতালটিতে শিশুদের আইসিইউ না থাকায় এসব সংকটের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 
নেপথ্যের কারণ ও দুদকের তদন্তঃ 
সাধারণত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আন্তঃ বিভাগে বেডের তুলনায় দুই তিন গুন রোগী ভর্তিকে ঔষধ সংকটের মূল কারণ হিসাবে বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে হাসপাতালের অনেক কর্মকর্তার দাবি, বিগত বছর হাসপাতালের সাবেক পরিচালকের ঔষধ কেনাকাটায় অনিয়ম এই সংকটের জন্য মূল দায়ী। অপ্রয়োজনীয় ঔষধ বেশি কেনাকাটা এবং ন্যায্য মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ঔষধ কেনায় অর্থ বছরের শেষ সময়ে এসে এ ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত তিনজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এর সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালে অতি অত্যাবশ্যকীয় ঔষধ এবং সরঞ্জামের বাইরে কেনা হয়েছে কম প্রচলিত ঔষধ। একই সাথে প্রয়োজনের তুলনায় কম বরাদ্দ দেখিয়ে সরকারি টেন্ডার করা হয়েছে। 
সে সময় অনুসন্ধানে জানা যায়, গত অর্থবছরে বাজারে ১০১ টাকা মূল্যের ইনজেকশন ‘থায়োপেনটাল সোডিয়াম’ সরকারি নথিতে দেখানো হয়েছে ১ হাজার ২৯৯ টাকা। শুধু এই একটি আইটেমে লোপাট হয়েছে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ৯ লাখ এরোভাসটাটিন ২০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট কেনা হয়েছে। যা এই ট্যাবলেটের ২০ বছরের চাহিদা, পরে সমালোচনার মুখে এসব ট্যাবলেট বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেসময় এক প্রতিবাদ সভায় বিএনপিপন্থি চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবের কুমিল্লা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. আরিফ হায়দার দাবি করেন, ‘২৪ কোটি টাকার অনিয়মের মধ্যে আড়াই কোটি টাকার ভাগাভাগি হয়েছে পরিচালক ডাক্তার মাসুদ পারভেজ ও কয়েকজন চিকিৎসক নেতার মাঝে।’
 ‘কুমেক হাসপাতালের ওষুধ কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে’ এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি দুদকের নজরে আসে। এরপরই রোববার দুপুরে দুদক সমন্বিত কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে দুদকের একটি দল হাসপাতালের মেডিসিন স্টোর রুম ও পরিচালকের কার্যালয়ে অনুসন্ধান চালায়। এ সময় তারা পরিচালকের কার্যালয়ের বিভিন্ন নথিপত্র, ওষুধের স্টোর রুমের মজুদ এবং কেনাকাটা সংক্রান্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়াও অনিয়মের বিষয়ে তারা কুমেক হাসপাতালের পরিচালক মো. মাসুদ পারভেজের কাছ থেকে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিগুলো তলব করেন।
সে সময় দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসান জানান, তিনটি ওষুধ কেনাকাটায় কার্যাদেশ ও ক্রয় সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এতে যে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে তা উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছে আবেদন করা হবে। 
এই সম্প্রতি এ বিষয়ে দুদক কার্যালয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঔষধ কেনাকাটার অনিয়ম তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কার্যালয় থেকে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে এবং একজন নির্দিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাকেও এই তদন্তের ভার দেয়া হয়েছে। তবে তদন্তাধীন বিষয় নিয়ে সরাসরি কোন কিছুই বলতে চাননি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। 
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কি বলছে?: 
সম্প্রতি এক তাৎক্ষণিক আদেশে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোঃ মাসুদ পারভেজকে বদলি করা হয়। এখন এই পদটি শূন্য। দায়িত্বে থাকা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নিশাত সুলতানা এবং তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ শাহ জাহান হাসপাতালটিতে ঔষধ ও সরঞ্জাম সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, বেডের তুলনায় রোগের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি এই হাসপাতালে কুমিল্লা ও তার আশপাশ থেকে বিপুল পরিমাণে সেবা প্রার্থী আসছে। 
তবে চলতি অর্থবছরে কেনাকাটায় অনিয়ম ও অপ্রচলিত ঔষধ কেনাকাটার বিষয়টি জানতে চাইলে ডা. নিশাত সুলতানা জানান, সে সময় একটি ভুল হয়েছে। পরবর্তীতে সেসব সমস্যা শুধরে নেয়াও হয়েছে। 
তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ শাহজাহান বলেন, এমআরআই ফিল্ম শেষ হয়ে গেছে, অপারেশনের জন্য এনেস্থেসিয়া আইটেমও শেষ আর সার্জিক্যাল এর জন্য অনেক সুতার টেন্ডারেও আনা যায়নি যেগুলো রোগীদেরকে কিনে আনতে হচ্ছে। সিরিঞ্জেরও প্রকট সংকট রয়েছে। সত্যি কথা বলতে আমরা এক জায়গা থেকে এনে আরেক জায়গায় দিয়ে আবার সেই জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দিয়ে কোন রকমে চলছি। 

সচেতন নাগরিকদের দাবি: 
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কুমিল্লা জেলা শাখার সদস্য বদরুল হুদা জেনু বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঔষধ ও সরঞ্জাম নিয়ে যে দুর্নীতি হচ্ছে এটা একেবারেই নিশ্চিত। এটি ঠিক যে এই হাসপাতালে বেডের তুলনায় দুই গুণ তিন গুণ বেশি রোগের চিকিৎসা নেয় - কিন্তু যারা হাসপাতালটি পরিচালনায় রয়েছে তারা এই বিষয়টি আগে থেকেই জানেন এবং তাদের সেভাবেই ব্যবস্থাপনা করা উচিত ছিল যেন কোন অভিযোগ না আসে। তারা যদি ঔষধ সরঞ্জাম না দিতে পারে তাহলে রোগীদের 'না' করবে। কিন্তু যা বরাদ্দ পাওয়া যায় সেটির যদি ৪০ শতাংশ ব্যবহার করা হয় এবং চিকিৎসকরা রোগীদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করেন যে কি কারনে ঔষধ পাওয়া যাচ্ছে না তাহলে এত জটিলতা তৈরি হত না। সুতরাং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই এখানে ধোঁয়াশা তৈরি করে রেখেছে। 
তিনি আরো বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যারাই চিকিৎসা নিতে আসে তারা বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের এবং চাহিদা সম্পন্ন মানুষ। কুমিল্লা ও আশেপাশের জেলার কথা বিবেচনা করেই হাসপাতালটিতে বিনামূল্যে ও ন্যায্য মূল্যে ওষুধ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে যদি এসব চাহিদা সম্পন্ন মানুষ বঞ্চিত হয় এবং উল্টো মৌলিক অধিকার সেবা নিতে গিয়ে বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয় করতে হয় তার পুরো দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তাই আমি নতুন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা হারিয়ে তোলার পাশাপাশি বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে হলেও এই হাসপাতালের ঔষধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা উচিত। 
বিশেষজ্ঞ মতামত:
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান জানান, যেসব ঔষধের তালিকা শুণ্য দেখা যাচ্ছে এগুলো অত্যাবশ্যকীয় জীবনরক্ষাকারী ঔষধ। এসব ইনজেকশন বা ঔষধ না থাকলে জরুরী আস্ত্রোপাচার সম্ভব না। আর এগুলো সময় মত না পেলেই সাধারণ রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। এগুলো শেষ হবার আগেই মজুদ করা প্রয়োজন। আর হাসপাতালে সিরিঞ্জ, স্যালাইন, রক্তের ব্যাগ এসবই ফ্রি। রোগীদের অসুস্থতা অনুযায়ী চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে যা ঔষধ থাকে তার চাহিদা অনুযায়ী হাসপাতালে ঔষধ কেনা বা বরাদ্দ পাওয়ার কথা, সব আসবে এমনও নয়। তবে যে ঔষধ রা সরঞ্জামগুলোর সঙ্কট – তা সঙ্কট তৈরীর আগেই সরবরাহ থাকা প্রয়োজন। না হয় যারাই সরকারি সেবা প্রত্যাশী তারা শুধু বঞ্চিতই হবেন না বরং প্রাণহানি কিংবা অঙ্গহানির মত ঝুঁকিতেও পরতে পারেন।   
ডা. মুজিবুর রহমান আরো জানান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরও মূল সমস্য শয্যা সঙ্কট। শয্যা অনুপাতে বরাদ্দ আসে। শয্যা অনুপাতে ঔষধও আসে। কিন্তু সেবাপ্রার্থীরা তো সেটা মানবে না- প্রতিদিন শয্যার তুলনায় রোগী থাকে তিনগুণেরও বেশি। আর যে কোন সঙ্কটকে পুঁজি করেই অব্যবস্থাপনা শুরু হয়। সুতরাং সরকারকে অবশ্যই বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের এই প্রতিষ্ঠানে দ্রুত সুদৃষ্টি দেয়া উচিত।




















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
নগরভবন নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হলে ফেরত যাবে ১২৫ কোটি টাকা
কুমিল্লায় বিক্ষোভ মিছিল কুশপুত্তলিকায় আগুন, জুতা নিক্ষেপ
কুমিল্লায় পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাংচুর তিন পুলিশসহ আহত ৪, আটক ১
বন্ধ হচ্ছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আমানতকারী পাবেন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা
বরুড়ার সোনাইমুড়ী ২০ শয্যা হসপিটাল নতুন নামকরণ করে চালুর ঘোষণা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সাবেক এমপি বাহারের বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলন
কুমিল্লায় বিক্ষোভ মিছিল কুশপুত্তলিকায় আগুন, জুতা নিক্ষেপ
বরুড়ার সোনাইমুড়ী ২০ শয্যা হসপিটাল নতুন নামকরণ করে চালুর ঘোষণা
নগরভবন নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হলে ফেরত যাবে ১২৫ কোটি টাকা
কুমিল্লায় পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাংচুর তিন পুলিশসহ আহত ৪, আটক ১
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২