
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত সোমবার রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। সরকারের তরফ থেকে চুক্তির শর্তগুলোকে ঢালাওভাবে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষক মহল শর্তগুলোর সম্ভাবনা ও ঝুঁকি দুটি দিকই পর্যালোচনা করেছে।
বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ রেসিপ্রোকাল শুল্ক আরোপ করেছিল।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী এটি ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। এটিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলা যায় না। তবে এই চুক্তির সবচেয়ে বড় ও আলোচিত দিক হলো নির্দিষ্ট শর্ত মানতে পারলে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক মার্কিন বাজারে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাবে। কিন্তু এই সুবিধা পেতে জুড়ে দেওয়া হয়েছে শর্ত-তা হলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও তৈরি পোশাকের কাঁচামাল ক্রয় করতে হবে বাংলাদেশকে।
এই শর্ত না মানতে পারলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। তখন আবার বড় বিপত্তি দেখা দেবে। সে ক্ষেত্রে শুল্কহার প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হবে।
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আগে থেকেই মার্কিন বাজারে ১৫.১ শতাংশ সাধারণ শুল্ক রয়েছে।
নতুন করে ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে সেটি দাঁড়াবে ৩৪.১ শতাংশে। অন্যদিকে ভারতে মোট শুল্কহার রয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে আমরা যদি মার্কিন শর্ত না মানতে পারি, তাহলে আমাদের তৈরি পোশাকের দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু আমরা যদি মার্কিন শর্ত মেনে তাদের কাছ থেকে কাঁচামাল ক্রয় করি এবং শূন্য শুল্ক সুবিধা পাই, তাহলে ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আমরা অনেকটা এগিয়ে থাকব। এরই মধ্যে ভারতীয় তুলা রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত কাঁচামালের জন্য এত দিন ভারতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাতেও। এই দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল ক্রয় করতে পারলে চলমান সংকট অনেকটাই দূর হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঁচামাল ক্রয় করলে একসময় মার্কিন রপ্তানিকারকদের হাতে আমরা জিম্মি হতে পারি। এ ছাড়া ভৌগোলিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র অপর প্রান্তে, এত দূর থেকে কাঁচামাল ক্রয় করা কতটা লাভজনক-সেই বিবেচনাও আমাদের করতে হবে।
অতীতে আমরা দেখেছি, দ্বিপক্ষীয় নানা চুক্তির ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে থাকি। দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে আমাদের প্রাপ্য সুযোগ থেকেও আমরা বঞ্চিত হই। সরকারের তরফ থেকেও কূটনীতিক তৎপরতার অভাব থাকে, যে কারণে আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারি না। আশা করছি, এ ক্ষেত্রে এসব তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হবে না।
প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে প্রভাবশালী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে লড়াই করে আমরা টিকে আছি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশাল বাজারে আমরা যদি শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে নিঃন্দেহে তা হবে আমাদের জন্য বড় অগ্রগতি। তবে সেই সুফল পেতে হলে এখন প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সব মহলের আন্তরিক ও কার্যকর পদক্ষেপ।
