বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৯ মাঘ ১৪৩২
চাষিদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করুন
প্রকাশ: রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৮ এএম |

চাষিদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করুন
বর্তমানে কিছু ভুলনীতির কারণে দেশের লবণশিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। করপোরেট হাউসগুলোর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে এ শিল্প। লবণচাষিরাও নানাবিধ সমস্যার কারণে এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। লবণের দাম উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কমে যাওয়ায় এবার লবণ চাষে আগ্রহ কমেছে। জমির খাজনা এবং উপকরণের দাম বাড়লেও কমেছে লবণের দাম। জমিতে এক মৌসুমে যে পরিমাণ লবণ উৎপাদন হচ্ছে তা বিক্রি করে তাদের খরচ উঠছে না। বিক্রি না হলে অথবা দাম কমে গেলে কৃষক লবণ সংরক্ষণ করতে পারেন না। কারণ লবণ সংরক্ষণের আধুনিক কোনো ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি। তারা লবণ মাঠে গর্ত করে সংরক্ষণ করেন। সংরক্ষণের সময় নষ্ট হয়ে যায় কৃষকের শ্রমে-ঘামে উৎপাদিত লবণ। কৃষকরা জানান, মাটির গর্তে সংরক্ষণ করা লবণের অন্তত ১০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। যদি লবণ সংরক্ষণের বিষয়ে সরকার চাষিদের সহযোগিতা করত কিংবা বড় লবণ কোম্পানিগুলো সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে লবণ ক্রয় করত তাহলেও কৃষকরা কিছু বাড়তি টাকা পেতেন। লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, দালাল ও প্রভাবশালীদের শোষণ বন্ধ, সরকারি নজরদারি এবং বিসিকের কার্যকর ভূমিকা চান কৃষকরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরিকল্পিত উৎপাদন বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাব, মৌসুমভিত্তিক বাজার নিয়ন্ত্রণ না থাকা- এ তিনটি কারণেই লবণের বাজার ওঠানামা করছে। লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকারি ক্রয়, সংরক্ষণ সুবিধা ও রপ্তানির উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে লবণ উৎপাদনে আগ্রহ হারাবেন চাষিরা।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত বছর দেশে লবণের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ ১০ হাজার টন। উৎপাদন হয়েছে ২২ লাখ ৫২ হাজার টন। কাগজে-কলমে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন লবণের ঘাটতি রয়েছে। গত বছর দেশে ৬৯ হাজার ৫২১ একর জমিতে লবণ চাষ হয়েছিল। তার আগের বছর চাষ হয়েছিল ৬৮ হাজার একর জমিতে।
বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির বলেন, শিল্পলবণের নামে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করছে বড় কোম্পানিগুলো। কারণ প্রতিটি বড় কোম্পানিতে লবণ মিল আছে। একই সঙ্গে কস্টিক সোডা তৈরির কারখানাও রয়েছে। তারা কস্টিক সোডা তৈরির উপকরণ হিসেবে শিল্পলবণের নাম দিয়ে লবণ আমদানি করে প্যাকেটে বাজারজাত করে। শিল্পলবণ আমদানিতে শুল্ক ও কর দিতে হতো ৯৩ শতাংশ। বর্তমানে সেটার আমদানিতে শুল্ক ও কর দিতে হয় ২৫ শতাংশ। বড় শিল্পগ্রুপগুলো সেই সুযোগ নিচ্ছে। শিল্পলবণ আমদানি করে তা বাজারে ভোজ্য লবণ হিসেবে ছেড়ে দিচ্ছে। অথচ মিলাররা আমদানি করতে গেলে ৯৩ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয়। যে কারণে দেশি কৃষক এবং মিল মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিসিকের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে করপোরেট হাউসগুলো লবণশিল্পকে জিম্মি করছে।
দেশের ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় লবণশিল্পকে বাঁচাতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারের ভুলনীতির কারণে এ শিল্প যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য এখন থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। লবণের দ্রুত ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, দালাল ও করপোরেট দৌরাত্ম্য, প্রভাবশালীদের শোষণ বন্ধ, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিসিকের কার্যকর ভূমিকাও জরুরি। পাশাপাশি লবণ সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যাতে করে চাষিরা দীর্ঘদিন ধরে লবণ সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। বড় গ্রুপগুলো যাতে সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে লবণ সংগ্রহ করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যাশা করছি, সরকার অচিরেই লবণশিল্পকে বাঁচাতে একটি টেকসই ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
বিএনপি থেকে বহিষ্কার মুন্সী
কুমিল্লায় শৃঙ্খলা বাহিনীর ২৬ হাজার সদস্য
কুমিল্লায় পুকুর সেঁচে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করলো র‌্যাব
জনগণ ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেবে -দ্বীন মোহাম্মদ
একুশে বইমেলা শুরু ২০ ফেব্রুয়ারি
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
আওয়ামী লীগের নিরপরাধ নেতা কর্মীদের প্রতি উদার হতে হবে
জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিভাগীয় শহরে কুবির বাস সার্ভিস
ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ছেড়ে যাবেন না
ব্যালট যাচ্ছে কুমিল্লার আসনে আসনে
শেষ সময়ে জমজমাট প্রচারণা কুমিল্লায়
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২