
সকল
শঙ্কার মেঘ উড়িয়ে উদিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসমুখর ভোট উৎসব হয়েছে
কুমিল্লায়। বহুল কাক্সিক্ষত সেই ভোট উৎসবে শামিল হয়েছেন ধর্মবর্ণ
নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রয়োগ করেছেন ভোটাধিকার; বেছে নিয়েছেন
প্রছন্দের প্রার্থী। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের সব ক’টি উপজেলার প্রায়
প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। তাদের অনেকেই বলেছেন
‘ঈদ উৎসবের’ মতো আনন্দ নিয়ে ভোট কেন্দ্রে এসেছেন তারা। তবে কিছু কিছু
জায়গায় বিচ্ছিন্ন কিছু অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। সেসব ঘটনা বাদ দিলে বহুল
প্রতীক্ষার ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া ভোট শেষ
হয়েছে বিকাল সাড়ে ৪টায়। ভোট শেষে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে
জানা গেছে, কুমিল্লায় ভোট পড়েছে ৫৫.৪৭ শতাংশ।
কুমিল্লার দেবিদ্বার
উপজেলার বাগমারা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা নবীন ভোটার
এক তরুণী বলেন, জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে এসেছি; তাও আবার দুটি- একটি গণভোট
এবং অপরটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। আমি বেশ আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।
কুমিল্লার
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা এক নারী বলেন,
দীর্ঘদিন পর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসবমুখরভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলাম।
শুধু ভোট দিবো বলেই ঢাকার উত্তরা থেকে ১০ হাজার রিজার্ভ গাড়ি ভাড়া করে
এসেছি। ভোট দিয়েছি ভালো লেগেছে।
তবে ভোট উৎসবের মাঝে এদিন ঘটেছে কিছু
বিচ্ছিন্ন ঘটনাও। এর মধ্যে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসনের লালমাই উপজেলার
চৌদ্দদোনা কেন্দ্রে ধানের শীষে সীল দেওয়া ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে। ভোট
চলাকালে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই কেন্দ্রে বিএনপির সমর্থকরা প্রবেশ করে
জোরপূর্বক ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারে বলে অভিযোগ
করেছেন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আমজাদ হোসেন। তিনি জানান, ভোট চলাকালে
হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত এসে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয় এবং ধানের শীষ প্রতীকে
সিল মারতে থাকে। তবে সিল মারা এসব ব্যালট পেপার আমরা বক্সে ঢুকাতে দেযইনি।
এদিকে
বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া কুমিল্লায় শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় সংসদ
নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরমধ্যে কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনের
দুটি কেন্দ্রে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় বিএনপি ও
জায়ামাত একে অপরকে দায় চাপিয়েছে।
কুমিল্লা-১০ আসনের নাঙ্গলকোট পেরিয়া
উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে জেলা যুবদল নেতা আহসান উল্লাহকে
লাঠি চার্জ করেছে সেনাবাহিনী। একই উপজেলার পেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে
দাঁড়িপাল্লার এজেন্ট সোহেলকে বুথ থেকে উঠিয়ে নিয়ে গণ পিটুনী দিয়েছে বিএনপির
সমর্থকরা।
এসব ঘটনা ছাড়া কুমিল্লায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত
হয়েছে। সকাল থেকেই দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে
ভোট দিয়েছেন। দুপুর পর্যন্ত কুমিল্লার ১১ টি সংসদীয় আসনে ৪২ শতাংশ ভোট
কাস্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার হাবিবুর রহমান।