কুমিল্লা-৭
চান্দিনা আসনে ভোটের মাঠে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট যুদ্ধের শঙ্কা থাকলেও
তা উড়িয়ে দিয়ে চমক দেখালেন তরুণ রাজনৈতিক নেতা আতিকুল আলম শাওন। চারবারের
সাবেক সংসদ সদস্য ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদকে
ধরাশায়ী করে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করেন তিনি। তাঁর এই বিজয়ে নেতা-কর্মী ও
সমর্থকদের মাঝে ফিরে এসেছে প্রাণের সঞ্চার। আতিকুল আলম শাওন বিএনপি
বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
করেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩টি ইউনিয়ন ও
১টি পৌরসভার ১০৫টি কেন্দ্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ
শুরু হয়ে বিরতিহীন ভাবে চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সন্ধ্যার পর থেকে
বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল আসতে থাকতে থাকে উপজেলা কন্ট্রোল রুমে। রাত পৌঁনে
১২টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে ১০৫টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং
অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক।
এতে
‘কলস’ প্রতীকে ৯০ হাজার ৮১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী
পয়ত্রিশ বছর বয়সী তরুণ নেতা আতিকুল আলম শাওন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি
ধানের শীষ প্রতীকের প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান
আহমেদ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট। ওই নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বির
প্রাপ্ত ভোট থেকে দ্বিগুনের বেশি ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন
শাওন।
আতিকুল আলম শাওন ২০১৮ সাল থেকে চান্দিনা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতির
দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার
৩দিন আগে হঠাৎ দল পরিবর্তন করে বিএনপিতে যোগদান করেন রেদোয়ান আহমেদ। তিনি
বিএনপিতে যোগদানের সাথে সাথেই বিএনপি’র দলীয় মনোনয়নপত্র বাগিয়ে আনেন।
পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে হয় আতিকুল আলম
শাওনকে। প্রার্থী হওয়ার কারণে দলীয় পদও হারান শাওন। কিন্তু তাতেও বিচলিত
হননি তিনি ও তার নেতা-কর্মীরা। কঠিন মনোবল ধারণ করে ভোট যুদ্ধে নামেন তিনি।
পিতা মরহুম খোরশেদ আলম ও তার নিজ হাতে গড়া উপজেলা বিএনপি থেকে শুরু করে
ওয়ার্ড কমিটির কোন নেতা-কর্মী ছেড়ে যায়নি শাওনকে। সকলের ঐক্যবদ্ধ
প্রচেষ্টায় চারবারের সাবেক সংসদ সদস্যকে ধরাশায়ী করে বিজয় নিশ্চিত করেছেন
আতিকুল আলম শাওন।
