বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৯ মাঘ ১৪৩২
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক হতে হবে
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৩ এএম |

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক হতে হবে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার লক্ষ করা গেছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। এ ছাড়া নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে দেশে ছোট-বড় নানা ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদের চালান ঢুকছে। চোরাচালানের মাধ্যমে আসা অস্ত্র নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তার ও ভয়ভীতি দেখানোর জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে আসা অস্ত্র অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হবে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। দেশে নির্বাচনের আগের কয়টা দিন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়টা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর সুযোগ নিতে পারবে। সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া ১ হাজার ৩৩১টি অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় সেসব অস্ত্র নির্বাচনে নাশকতার শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সব বৈধ অস্ত্র কাছের থানা বা ডিলার পয়েন্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল, কিন্তু কতগুলো জমা হয়েছে, সে হিসাব নেই মন্ত্রণালয়ের কাছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিত্র এবং দেশের রাজধানী তথা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেলা ঢাকার ক্ষেত্রে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বা তথ্য সংরক্ষণের বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। ফলে ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনি মাঠে ততই শঙ্কা বাড়াচ্ছে এসব বৈধ-অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ৩৬ দিন দেশে অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন; যা খুবই উদ্বেগের বিষয়।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, বৈধ-অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নির্বাচনি মাঠের শান্তিশৃঙ্খলায় বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেভাবে অবৈধ অস্ত্র বা লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। তার মাঝে আবার নির্বাচন ঘিরে অনেককে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যারা তা এখনো বহন বা ব্যবহার করতেও পারবেন। ফলে এসব পরিস্থিতি নির্বাচনে একধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে কোনো কারণে যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয় বা ভোটের মাঠে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়, তখন এসব অস্ত্র নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সরকারের দায়িত্বশীলদের বাইরে যে কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকা মানে তা জনগণের জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বর্তমানে নির্বাচনি মাঠে বড় শঙ্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ অস্ত্র। ভোটের কয়েকটি দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এ সময়টাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে নানা অপকৌশল নিতে পারে। অপরাধীরা যাতে এ ধরনের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ সময়টাতে অভিযান পরিচালনা জোরদার করতে হবে এবং বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সহিংসতামুক্ত, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক, সেটাই প্রত্যাশা।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
বিএনপি থেকে বহিষ্কার মুন্সী
কুমিল্লায় শৃঙ্খলা বাহিনীর ২৬ হাজার সদস্য
কুমিল্লায় পুকুর সেঁচে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করলো র‌্যাব
জনগণ ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেবে -দ্বীন মোহাম্মদ
একুশে বইমেলা শুরু ২০ ফেব্রুয়ারি
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
আওয়ামী লীগের নিরপরাধ নেতা কর্মীদের প্রতি উদার হতে হবে
জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিভাগীয় শহরে কুবির বাস সার্ভিস
ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ছেড়ে যাবেন না
ব্যালট যাচ্ছে কুমিল্লার আসনে আসনে
শেষ সময়ে জমজমাট প্রচারণা কুমিল্লায়
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২