জহির শান্ত ।।
কুমিল্লার
মুরাদনগরে 'ভোট কেনার' অভিযোগে টাকাসহ এক জামায়াত নেতা ও জেলার
চৌদ্দগ্রামে ভোটার স্লিপের সাথে 'টাকা বিতরণের' সময় দুই বিএনপি নেতাকে আটক
করা হয়েছে। পৃথক এ দুটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর
ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে । দুইটি ঘটনারই নিশ্চিত করে রিটার্নিং কর্মকর্তা
ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি বিষয়টি
তদন্ত করবে এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্র্যাটগণ এবিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।
জানা
গেছে, বুধবার সকালে কুমিল্লা মুরাদনগরে ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামত
কান্দি এলাকায় ভোট কিনতে গিয়েছেন অভিযোগে টাকাসহ জামায়াত নেতা মাওলানা
হাবিবুর রহমান হেলালী আটক করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয় স্থানীয় জনগণ।
মুরাদনগর
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুর রহমান
জানান, স্থানীয় লোকজন জামাত নেতাকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দিলে নির্বাহী
ম্যাজিষ্ট্র্যাট (সহকারী কমিশনার ভুমি) তাকে থানা হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ
দেন। তিনি বলেন, যেহেতু নির্বাহী মেজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিক ভাবে উপস্থিত হয়ে
আটক করেনি। তাই এ বিষয়ে জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
মুরাদনগর
পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান জামিল বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের
নির্দেশনা মতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক জামায়াত নেতা মাওলানা হাবিবুর রহমান
হেলালী এই মুহুর্তে পুলিশ হেফাজতে আছেন।
মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের
সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল হাবিবুর রহমান মুন্সী জানান, ঘটনাটি সাজানো এবং
যারা হেলালী সাহেবকে আটক করেছেন, তারাই বিষয়টি রটিয়েছেন। ঘটনাটি মিথ্যা ও
বানোয়াট উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিস্তারিত
তুলে ধরা হবে।
এদিকে কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রামের গুণবতী ইউনিয়নের ভোটার
স্লিপের সাথে টাকা বিলি করার অভিযোগে আবদুল মান্নান ও ফকির মেম্বার নামে
দুই বিএনপি নেতা আটক করে সাধারণ মানুষ। এনিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ নুরুল আমিন ঘটনার সত্যতা
স্বীকার করে বলেন, ঘটনা শুনে আমরা সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছি। তারা তাদেরকে না
পেলেও বিষয়ট ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে জানানো হয়েছে- তারা বিষয়টি নিয়ে
ব্যবস্থা নিবেন।
এবিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান জানান,
এবিষয়টি মীমাংসার মধ্যমে শেষ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছিলো, তবে আমরা
জানার পর আমি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এবিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
আমরা একটি অভিযোগ দিতে বলেছি- এবং সেখানে নিয়োজিত জুডিশিয়াল
ম্যাজিষ্ট্র্যাটগণ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নিবেন।
চৌদ্দগ্রাম
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, এটা সাজানো ঘটনা,
তাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা সেখানে কেন্দ্র পরিচালনার জন্যও টাকা দেইনি,
তারা টাকা কোথায় পাবে। পুরো বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করে এর প্রতিবাদ
জানিয়েছি।
জিআই পাইপ, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার :
এদিকে
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের একটি মাছের খামার থেকে বিপুল পরিমাণ জিআই পাইপ ও
ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে সেনাবাহিনী ও পুলিশের
যৌথ অভিযানে উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের মগুয়া এলাকার আল বাশারাতের মাছের
খামার থেকে এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন নাঙ্গলকোট থানার ওসি
আরিফুর রহমান।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের
যৌথ অভিযানে ওই এলাকার মাছের খামার থেকে এসব জিআই পাইপ ও ককটেল তৈরির
সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। তবে কে বা কারা এগুলো এখানে রেখেছে তা আমরা
নিশ্চিত নই। এসব বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান চলছে।
