নানা
নাটকীয়তা ও জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ধানের শীষ প্রতীক পেলেন বিএনপির
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা-১০ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী
আলহাজ্ব মোঃ মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। আদালতের রায়ের পর বিএনপি দলীয় ফোরামের
সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রাপ্ত চিঠির ভিত্তিতে মোঃ মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে
ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং
কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে প্রতীক বরাদ্দ
দেওয়া হয়।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা) আসনে ২০০৮ সালের
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোবাশ্বের
আলম ভূঁইয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন
তিনি। কিন্তু দল মনোনয়ন দেয় একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর
ভূঁইয়াকে। তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, যাচাই-বাছাইয়ে প্রার্থিতা টিকে যায়।
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াও মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে। দলীয়
প্রত্যয়নপত্র না থাকায় সেটি যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায়। অবশেষে মোবাশ্বের
আলম ভূঁইয়াই এখন এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী।
এরআগে রোববার
কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার দাখিল করা
মনোনয়নপত্র বাতিলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের
(ইসি) সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ
করতে ইসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিলে
ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মোবাশ্বের আলমের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি
নিয়ে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে
গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার আইনজীবী
জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ঋণখেলাপি ও দলীয় প্রত্যয়ন নেই—এ দুই গ্রাউন্ডে তাঁর
মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। মোবাশ্বের আলম গত ১০ ডিসেম্বর এককালীন অর্থ
পরিশোধ করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ ডিসেম্বরের আগেই ঋণ পুনঃ তফসিল হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংক যোগাযোগ করতে গিয়ে দেরি করেছে। পুনঃ তফসিলের পরবর্তী সময়ে
সব টাকা পেয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক জানিয়েছে। তাই তিনি খেলাপি নন। আর
দলীয় প্রত্যয়নপত্র ছাড়া তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন।
জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আরো
বলেন, ‘একই আসনে গফুর ভূঁইয়ার দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি তাঁর হলফনামায় গোপন
করার অভিযোগে অন্য এক প্রার্থীর করা আপিলের কারণে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল
হয়। ওই দিনই বিএনপি মোবাশ্বের আলমকে চূড়ান্ত করে দলীয় চিঠি তাঁর হাতে দেয়।
পরে তিনি দলীয় চিঠি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে হাজির হন মনোনয়নপত্রের
বৈধতার জন্য। তবে হাতে হাতে চিঠি নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। পরে তিনি রিট
করেন। সর্বশেষ মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্ট তাঁকে
ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
কুমিল্লা জেলা নির্বাচন
কর্মকর্তা শেখ মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের আদেশ ও দলীয় প্রত্যয়ন
পাওয়ায় মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবং
তার নির্বাচনী কার্যক্রমে আর কোন বাধা রইলো না।
উল্লেখ্য, গত ২১
জানুয়ারি কুমিল্লা-১০ আসনে ছয়জনকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে
জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মাওঃ মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাতকে (দাঁড়িপাল্লা),
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শামছুদ্দোহাকে (হাতপাখা), বাংলাদেশ
সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী কাজি নুরে আলম ছিদ্দিকিকে (ছড়ি), বাংলাদেশ
কংগ্রেসের হাছান আহম্মেদকে (ডাব), গণ অধিকার পরিষদের রমিজ বিন আরিফকে
(ট্রাক) এবং আমজনতার দলের মো. আবদুল্লাহ আল নোমানকে (প্রজাপতি) প্রতীক
বরাদ্দ দেওয়া হয়।
সর্বশেষ, ২৬ জানুয়ারী সোমবার দুপুরে বিএনপি মনোনীত
প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব মোঃ মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে ধানের শীষ প্রতীক
বরাদ্দ দিয়েছে।
