
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে বিএনপি কিভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে- দেশ গড়ার সেই পরিকল্পনা জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) কুমিল্লার সুয়াগাজী ফুলতলি মাঠে নির্বাচনী জনসভায় সেই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। ধানের শীষকে জয়ী করলেই দেশবাসী উপকৃত হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা সরকারে ছিলাম। বিএনপির দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে। বিএনপি জানে কিভাবে একটি দেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। বিএনপির অভিজ্ঞতা আছে কিভাবে নারী শিক্ষার উন্নয়ন করা যায়, কিভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা যায়। আমরা আমাদের পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করব। রাতারাতি কিছু হবে না, ক্ষমতায় এলে পরিকল্পনা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ৭১ সালে আমারা মহান স্বাধীনতা অর্জন করেছি, ২৪ এ এসে ছাত্র জনতা স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। ৫ আগস্টের পর থেকেই একটি দল বিএনপির সমালোচনা করে যাচ্ছে। আমরাও সামলোচনা করতে পারি। কিন্তু আমরা সমালোচনা যদি করি তাহলে কি আপনাদের পেট ভরবে? বিএনপি অতীতে বেশ কয়েকবার দেশ পরিচালনা করেছে। নারীদের পড়াশোনা ফ্রি করেছে, নারীদের উপবৃত্ত সুবিধা দিয়েছে, কৃষকদের বিনা সুদে ঋণ দিয়েছে। এবার দেশ নিয়ে আমারও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। তারেক রহমান বলেন, আমরা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছি। ফ্যমিলি কার্ডের মাধ্যমে এদেশে যারা গৃহিনী আছে তাদের মাসিক সহযোগিতা করতে চাই, যাতে করে সংসার চালাতে তারা হিমশিম না খায়। নারীদের সাবলম্বী করতে আমাদের এই উদ্যোগ। বেগম খালেদা জিয়া ক্লাস ওয়ান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা ফ্রি করেছে আজ থেকে ২০ বছর আগে। বিএনপি তখন উদ্যোগ নিয়েছিলো শিক্ষিত করতে, এখন উদ্যোগ নিচ্ছি নারীদের স্বাবলম্বী করতে। ক্ষুদ্র কৃষক, প্রান্তিক কৃষক, মাঝারি কৃষকরা কৃষি কার্ড পাবে। কার্ডের মাধ্যমে সাড়, বীজ, কীটনাশক সরাসরি আমরা পৌঁছে দিবো। বছরে অন্তত একটি ফসলের বীজ, সার, কীটনাশক ফ্রি পাবে এই কার্ডের মাধ্যমে।

কৃষি সম্প্রসারণ করতে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করতে চাই। বিএনপি নির্বাচিত হলে আমরা খাল কাটা প্রকল্প উদ্বোধন করতে এ অঞ্চলে আবার আসবো। এ অঞ্চলে বন্যা, জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে খাল খননের মাধ্যমে। তিনি বলেন, তরুণ বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য এ অঞ্চলে ইপিজেড সম্প্রসারণ করে ফ্যাক্টরি বাড়ানো হবে। যেখানে নারী পুরুষ কাজ করতে পারবে। প্রবাসগামী যুবকদের জন্য বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমরা স্কিলড ওয়ার্কার পাঠাবো। সে লক্ষ্যে ট্রেনিং ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। চিকিৎসা সেবা নিয়ে বলেন, সারাদেশে চিকিৎসার বেহাল অবস্থা। বিএনপির চিকিৎসা সেবা নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছিলো। বিএনপি আবারও ‘হেল্থ কেয়ারার' নামে ডাক্তার নিয়োগ হবে। যারা ঘুরে ঘুরে গ্রামে চিকিৎসা দিবে। ভোটারদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তাহাজ্জুদ পড়ে ভোট দিতে যাবেন। ভোট দিয়ে বসে থাকবেন না, যে অধিকার থেকে আপনাদের বঞ্চিত করা হয়েছিলো সে অধিকার কেন্দ্র থেকে কড়ায় গন্ডায় বুঝে নিয়ে আসবেন। কুমিল্লা দক্ষিন জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সদর আসনের প্রার্থী ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয়ক ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন, কুমিল্লা-২ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, কুমিল্লা ৫ আসনের প্রার্থী হাজী জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা ৭ আসনের প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমদ, কুমিল্লা ৯ আসনের প্রার্থী আবুল কালাম, কুমিল্লা-১০ আসনের প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া, চাঁদপুর কচুয়ার সদস্য এহসানুল হক মিলন, ফরিদগঞ্জ আসনের প্রার্থী লায়ন হারুনর রশীদ, চাঁদপুর সদর আসনের প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া প্রমুখ।
এসময় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, হেনা আলাউদ্দিন, ইউট্যাবব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, ফরিদগঞ্জের এমপি প্রার্থী ড. জালাল উদ্দীনসহ কুমিল্লা, চাঁদপুরের বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।
তারেক রহমানের আগমণে উপলক্ষে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। ব্যানার-ফেস্টুন ছেয়ে যায় সমাবেশস্থলের আশেপাশ। দুপুর থেকেই জনসভাস্থলে আসা শুরু করে কুমিল্লা ও চাঁদপুরের নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যার আগেই সমাবস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। তারেক রহমান মঞ্চে উঠেন রাত সাড়ে ১০ টায়। তিনি দুই হাত নাড়িয়ে নেতাকর্মীদের অভ্যর্থনার জবাব দেন।