চব্বিশের
জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট
হওয়া অস্ত্র হয়ত লুটকারীরা খালে-বিলে ফেলে দিয়েছে; এ কারণে উদ্ধার করা
সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত
লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, “থানা থেকে
লুট হওয়া কিছু অস্ত্র আছে সেগুলো এখনো উদ্ধার করা যায়নি। সেগুলো হয়ত
খাল-বিল-নদীতে ফেলে দিয়েছে। এজন্য উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পুলিশের
লুট হওয়া এই অস্ত্র নির্বাচনকালে ব্যবহার করতে পারবে না এ প্রতিশ্রুতি আমি
আপনাদের দিতে পারি।
“দৈনিক আমাদের কিছু না কিছু অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে।
উদ্ধার হচ্ছে না তা নয়। উদ্ধার হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে যে অস্ত্র আসছে সেগুলোও
কিন্তু উদ্ধার হচ্ছে। তবে আপনারা যে পরিমাণ আশা করেন, হয়ত সে পরিমাণ হচ্ছে
না।”
রোববার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস
পুলিশ ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ
সময় তিনি বলেন, “দেশে এখন জঙ্গিবাদ বা চরমপন্থি আগের চেয়ে অনেক অনেক কম।
এখন জঙ্গিবাদ নাই বললেই চলে। তবে কিছু ফ্যাসিস্ট জঙ্গি রয়েছে। তারা
অন্যান্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এই জঙ্গিদেরকে যাতে তাড়াতাড়ি দেশে নিয়ে
আসতে পরি; যেন আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারি এজন্য আমরা ব্যবস্থা করব।”
এর
আগে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু
ও শন্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেড় লাখ পুলিশ সদস্য পেশাদারিত্বের
সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে। এবার প্রথমবারের মত নির্বাচনি
নিরাপত্তাসহ দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া
হয়েছে।”
পুলিশের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বাচনে শতভাগ
নিরপেক্ষতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ
থেকে অনৈতিক কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না। এমনকি দায়িত্ব পালনে তাদের
কোনো প্রতিনিধির কাছ থেকে খাবারও গ্রহণ করবেন না। কেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা
হলে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে তা শক্ত হাতে দমন করতে হবে।
আশা করি, আপনারা পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে
নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।”
একাডেমির
প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই কুচকাওয়াজে ৯৬ প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। এর
মধ্যে ৪১তম বিসিএসের ৮৭ জন। বাকিরা ২৮, ৩৫, ৩৬, ৩৭ ও ৪০তম বিসিএসের। এক বছর
মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে নবীন কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসের
বাস্তব প্রশিক্ষণে যোগ দেবেন।
অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থীদের
মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ‘বেস্ট প্রবেশনার’ হন মোহাম্মদ সাজ্জাদ
হোসেন। ‘বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ পান মেহেদী আরিফ, ‘বেস্ট ইন ফিল্ড
অ্যাক্টিভিটিজ’ সজীব হোসেন, ‘বেস্ট হর্সম্যানশিপ’ মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং
‘বেস্ট শ্যুটার’ হয়েছেন সালমান ফারুক।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক
বাহারুল আলম, পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি তওফিক মাহবুব চৌধুরী,
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো.
শাহাজাহান, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
