ইসমাইল নয়ন।।
কুমিল্লাবুড়িচং
ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের সংস্কারকাজের ধীরগতির কারণে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া
উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। গত ২০২৪ সালের ভয়াবহ
বন্যার আগেই সড়কটি ছিল বেহাল অবস্থায়। পরবর্তীতে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া
এলাকায় গোমতী নদীর ভাঙন ও বন্যার কারণে সড়কের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে,
যা অনেক জায়গায় সম্পূর্ণভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়।
এই সড়কটি বুড়িচং
ও ব্রাহ্মণপাড়াবাসীর জন্য কুমিল্লা শহরে যাতায়াতের একমাত্র প্রধান মাধ্যম।
শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার
মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে জেলা সদর থেকে বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়ায়
প্রতিদিন অফিস করেন । কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলমান ধীরগতির সংস্কারকাজের
কারণে প্রতিদিন ২১ কিলোমিটার সড়কে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত যানবাহনে বসে
থাকতে হচ্ছে , যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত
করছে। এছাড়া সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থী ও রোগীরা। যানবাহনে দীর্ঘ
সময় বসে থাকা ও সড়ক ভাঙ্গাচুরার কারণে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন
তারা। যারা কুমিল্লা শহরে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন তারা অনেক ঝুঁকি নিয়ে
চলাচল করতে হচ্ছে।
সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী বাজার এলাকায় সিসি ঢালাইয়ের
মাধ্যমে সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও বাস্তবায়নে চরম ধীরগতি দেখা
যাচ্ছে। গত দেড় মাস আগে ভরসার বাজার এলাকায় ঢালাইয়ের কাজ শুরু হলেও তা এখনও
শেষ হয়নি। ফলে সেখানে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার
ঝুঁকি। একমুখী সড়ক হওয়ায় কাজ চলাকালীন সময় যানজট আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
এছাড়া
গত তিন থেকে চার মাস পূর্বে বুড়িচং বাজার থেকে কুমিল্লার পালপাড়া পর্যন্ত
সড়কের পিচ তুলে সংস্কারকাজ শুরু হলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভোগান্তি আরও
বেড়েছে। সম্প্রতি বুড়িচং বাজার এলাকায় নতুন করে সিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু
হওয়ায় পুরো বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিকল্প
পথে যাতায়াতের নির্দেশনা দেওয়া হলেও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর অবস্থাও খারাপ
হওয়ায় যান চলাচলে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণপাড়া বাজার
এলাকায় টাটেরা থেকে মোশারফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পর্যন্ত
সড়কের সংস্কারকাজও শুরু হয়েছে। এই কাজ কতদিন চলবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আগামী ১২
ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও
প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
সড়কের বিভিন্ন
স্থানে উঁচু-নিচু ও ঢালু অবস্থার কারণে প্রায়ই অটোরিকশা ও সিএনজি উল্টে
দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ আহত হচ্ছে, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও
ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
সড়কের বেহাল দশার কারণে অনেক
যানবাহনকে বিকল্প পথে ব্রাহ্মণপাড়া থেকে হরিমঙ্গল হয়ে কিংবা গোমতী নদীর আইল
ঘেঁষে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কুমিল্লা শহরে যেতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত সময় ও
ভাড়া দুটোই বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
ব্রাহ্মণপাড়া
থেকে কুমিল্লা শহর পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের সংস্কারকাজ
গত তিন থেকে চার মাস ধরে বিভিন্ন অংশে খণ্ড খণ্ডভাবে চললেও এর শেষ কবে হবে
তা কেউ বলতে পারছে না।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমন্বিত ও
কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে সড়ক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে
নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব ধরনের যানবাহনের নির্বিঘ্ন
চলাচল নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান
জানানো হয়েছে।
মিজান নামের একটা সিএনজি চালক জানান, দীর্ঘ ৪/৫ মাস ধরে
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ রাস্তায় চলাচল করছি পরপর সিএনজির যাত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে
যে টাকা আয় করি তার চেয়েও বেশি খরচ হয়ে যায় গাড়ি মেরামত করতে অচিরেই এই
রাস্তা সংস্কার করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপদ
বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, কিছুটা দুর্ভোগে
পড়ছে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষ। তবে এ রাস্তার কাজ দ্রত গতিতেই চলছে। এক
দিয়ে বাজারগুলো সিসি ঢালাই, অন্যদিকে সড়কে পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
আশা করি মার্চের মাসের মধ্যে উক্ত কাজগুলো সমাপ্ত হবে।
