নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লার ২টি আসনে প্রার্থী শূন্য হতে যাচ্ছে বিএনপি। এসব আসনে বিএনপির প্রার্থী না থাকলে অনেকটা সহজ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়ে যেতে পারে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীরা ।
১৮ জানুয়ারি রবিবার আপিল শুনানির শেষ দিনে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিলের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই শুনানীতে বাতিল হয় এই আসনের বিএনপি'র বিদ্রোহী প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্রের আবেদনটিও।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়া নির্বাচনি হলফনামায় নিজের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। এ কারণে কুমিল্লা-১০ আসনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর আগে, দ্বৈত নাগরিকত্বের জন্য আবদুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিলেন বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকি। তবে আপিলের দিন বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার পক্ষে কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের সময় ঋণ খেলাপির অভিযোগে বাদ পড়েন কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়ন পত্রটি। পরে মনোনয়ন ফিরে পেতে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া রির্টানিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও সেটি নামঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন। ফলে, এই আসনে বিএনপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কোন প্রার্থী রইল না।
১৭ই জানুয়ারি (শনিবার) নির্বাচন কমিশনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের বিএনপি’র প্রার্থী মনজুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল টিকে যায়। নির্বাচন কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তার মনোনয়ন পত্রটি বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল করেন ওই আসনের জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। এই আসনে হাসনাত আব্দুল্লার মনোনয়নপত্র বৈধতা নিয়েও রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। কিন্তু সে আপিলটি না মঞ্জুর করে হাসনাতের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হয়েছে। মনজুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়ন বৈধতা না পেলে কুমিল্লা-৪ এ অনেকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হবার সম্ভাবনা রয়েছে এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ্।
সবমিলিয়ে এই ২টি আসনে বিএনপির নির্বাচনী ভবিষ্যৎ কি হতে পারে তা জানা যাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং প্রতীক বরাদ্দের সময়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৮ জানুয়ারি (রোববার) নির্বাচন কমিশনের অডিটোরিয়ামে নবম ও শেষদিনের মতো রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে এই কার্যক্রম চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
শেষ দিনে ৬১১ থেকে ৬৪৫ নম্বর পর্যন্ত মোট ৩৫টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেই সঙ্গে আগের দিনগুলোয় অপেক্ষমাণ থাকা আবেদনগুলো রোববারের শুনানিতে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীরা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এরমধ্যে শুধু শেষ দিনেই (৯ জানুয়ারি) ১৭৬টি আপিল জমা পড়ে। গত ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এসব আপিল গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন
