বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
২ মাঘ ১৪৩২
নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারি জরুরি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৩ এএম |

নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারি জরুরি
বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্ত। বেশ কিছুদিন ধরে এখানে সংঘর্ষের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। অবৈধ অস্ত্রে সয়লাব সীমান্ত এলাকা। সীমান্তের ওপারে রাখাইন রাজ্য। এ অঞ্চলটি আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। এলাকাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা  চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এপারে বাংলাদেশের টেকনাফ। টেকনাফে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যেও সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয় ক্যাম্পে তারা বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করেছে বলে অভিযোগ আছে। আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সম্পর্ক শত্রুতামূলক, বৈরিতার। আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মাঝে মাঝেই সংঘর্ষ হয়। রোহিঙ্গারা অস্ত্র ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে যেমন খুন-জখম, অপহরণ-ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে, তেমনি চলমান উত্তেজনার মাঝে আরাকান আর্মি বা রাখাইনের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক হামলা চালাচ্ছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা শিবির থেকে বড় একটি গ্রুপ সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালায়। আরাকান আর্মি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে টেকনাফ লক্ষ্য করে গুলি, মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। এতেই সৃষ্টি হয় সাম্প্রতিক সংঘাতময় পরিস্থিতির। গত রবিবার আরাকান থেকে ছোঁড়া গুলিতে বাংলাদেশের এক শিশু গুরুতর আহত হয়। পর দিন সোমবার আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশের এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্ত অনেক দিন ধরেই অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে। একদিকে মায়ানমারের জান্তা বাহিনী, অন্যদিকে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র তিনটি গোষ্ঠী। এই ত্রিমুখী সংঘাতের কারণে টেকনাফ সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল ও ভীতিকর হয়ে উঠেছে। রাখাইন থেকে ছোড়া গুলি-মর্টার শেল এসে পড়ছে টেকনাফে। একদিকে যেমন সশস্ত্র সংঘর্ষ হচ্ছে, অন্যদিকে আহতের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয়রা চরম আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। 
সাম্প্রতিক এই সংঘাতের মধ্যে মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত মায়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াউ সোয়ে মোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনায় বাংলাদেশি আহত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ জানায় বাংলাদেশ। 
পরিস্থিতি দিন দিন যে খারাপ হচ্ছে, উল্লিখিত ঘটনা থেকেই তা বোঝা যায়। ত্রিমুখী এই সংঘাত যে কোনো সময় তীব্র হতে পারে, চলে যেতে পারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দুই দেশের মধ্যকার এই সংঘাত সাধারণ কোনো সীমান্ত সংঘাত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী–আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গারা। আরাকান আর্মিকে নির্মূল করার জন্য মায়ানমারের জান্তা সরকার তৎপর। আরাকান আর্মিও জান্তার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার জন্য লড়ছে। এদিকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারাও মাতৃভূমিতে ফিরতে চাইছে। কিন্তু তাতে বাধা হয়ে আছে দুটি পক্ষ-আরাকান আর্মি ও জান্তার সামরিক বাহিনী। মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে সংঘটিত সংঘর্ষের রূপটি খুবই জটিল। আরাকান আর্মি রাষ্ট্র-স্বীকৃতির বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী। এরকম একটা ‘ননস্টেট’ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারিভাবে বাংলাদেশের যোগাযোগের সুযোগ নেই। ভিন্ন চ্যানেলে যোগাযোগ করাও কতটা বৈধ তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ তাহলে মায়ানমার সরকার, যাদের সঙ্গে আমাদের বৈধ রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক, তারা এই যোগাযোগকে মায়ানমারের সার্বভৈৗমত্ব-বিরোধী তৎপরতা বলে মনে করতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ মায়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সীমান্ত উত্তেজনা সম্পর্কে প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়। তৃতীয় শক্তিশালী পক্ষ আরাকান আর্মির সঙ্গে বাংলাদেশের ‘কৌশলগত’ সম্পর্ক রাখলে সীমান্তের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রথমত যা করণীয় তা হলো, সীমান্তে আমাদের নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ টেকনাফ সীমান্তে বাড়তি টহল, নজরদারি ও সতর্কতা বাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে টেকনাফের সীমান্ত এলাকা থেকে ৫৩ জনের একটি গ্রুপকে তারা গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। 
দ্বিতীয়ত, মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অস্ত্র পাচার হয়, এটা একধরনের ওপেন সিক্রেট বিষয়। এই পাচার বন্ধ না হলে সীমান্ত উত্তেজনাও কমবে না। এমনকি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর অস্ত্র ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ করে থাকে। সামগ্রিকভাবে টেকনাফ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো জনপদ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে উত্তপ্ত হয়ে আছে। অভ্যন্তরীণভাবে কক্সবাজারে যেসব অপরাধ ঘটছে, বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এই অপরাধ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করণীয় দিকগুলো খতিয়ে দেখছে। সরকারকে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমিত না হলে বড় কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে তিনটি পক্ষ-মায়ানমার জান্তা, আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গারা। এতে টেকনাফ-কক্সবাজারের মানুষ নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এরকম পরিস্থিতিতে বিজিবিরও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যত দ্রুত মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের উত্তেজনা ও ভীতিকর পরিস্থিতি প্রশমিত করা যায়, ততই মঙ্গল।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
কুমিল্লায় আসছেন তারেক রহমান
মনিরুল হক চৌধুরী ও আব্দুল মতিনের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে করা আপিল নামঞ্জুর
কুমিল্লায় প্রবাসফেরৎ যুবকের বিরুদ্ধে ৬৭ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ
গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে বেতারের কমিউনিটি ব্রডকাস্ট অনুষ্ঠান হবে কুমিল্লায়
দাউদকান্দিতে স্বামীর বাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইউএনও ফেরদৌস আরা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় প্রার্থীতা ফিরে পেলেন আরো চারজন
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অব্যাহতির সুপারিশ, দুই শিক্ষককে সতর্কবার্তা
নিখোঁজের ১২দিন পর কচুরিপানায় মিললো অটোচালকের লাশ
‘আমার আব্বুরে মাইরা ফালাইছে’
বুড়িচংয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারী খুন- ভারতে পালানোর সময় বিজিবির হাতে গ্রেফতার ৩ আসামি
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২