
কুমিল্লার
দেবিদ্বার থেকে নিখোঁজের ১২ দিন পর একটি খাল থেকে নিখোঁজ অটোরিকশা চালক
আলাউদ্দিনের (৩৫) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ।
সোমবার বিকেলে পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের খোষঘর এলাকার হিরাপুর কবরস্থান
সংলগ্ন বুড়ি নদীর মোহনা খালের কচুরিপানার নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ঘাতকরা তাকে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে খালের ভেতরে কচুরিপানা দিয়ে
ঢেকে রেখেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।নিহত আলাউদ্দিন দেবিদ্বার উপজেলার
জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের মো. সুলতান আহমেদের ছেলে। তিনি ৩
সন্তানের জনক ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১
জানুয়ারি বছরের শুরুর দিন সন্ধ্যায় আলাউদ্দিন ফুলতলী গ্রামের এক মেকারের
কাছে তার একমাত্র আয়ের উৎস অটোরিকশাটি মেরামত করাতে যান। কাজ শেষ না হওয়ায়
রাত ৮টার দিকে তিনি মেকারকে বলেন, “বাকি কাজ কাল সকালে করাব, এখন যাত্রী
নিয়ে এক জায়গায় ভাড়ায় যাচ্ছি।” এর পর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ
পাওয়া যায়। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি
শুরু করেন। কোথাও হদিস না পেয়ে পরবর্তী সময়ে দেবিদ্বার থানায় একটি সাধারণ
ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
সোমবার বিকেলে খোষঘর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা
হিরাপুর কবরস্থান সংলগ্ন খালের পাড় দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র দুর্গন্ধ পান।
সন্দেহ হলে তারা খালের কচুরিপানা সরিয়ে মানুষের মরদেহের মতো কিছু দেখতে
পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার
হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাসমান অবস্থায় অর্ধগলিত
মরদেহটি উদ্ধার করে। নিখোঁজের ১২ দিন হওয়ায় মরদেহটি অনেকটা বিকৃত হয়ে
গিয়েছিল। খবর পেয়ে আলাউদ্দিনের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরনের পোশাক দেখে
তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
আলাউদ্দিনের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে চলছে
বুকফাটা হাহাকার। দরিদ্র এই চালকের আয়েই চলত তার বৃদ্ধ বাবা-মা ও সন্তানদের
সংসার। নিহতের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার পাগলপ্রায় হয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
তিনি আহাজারি করে বলেন, “আমার স্বামী তো কারো ক্ষতি করেনি। শুধু পেটের
তাগিদে অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়েছিল। আমার তিনটি ছোট ছোট এতিম বাচ্চাদের এখন কে
দেখবে? আমি কার কাছে বিচার চাইব?” নিহতের সন্তানদের কান্না দেখে ওই এলাকার
সাধারণ মানুষও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার
থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আনোয়ার হোসেন দৈনিক কুমিল্লার কাগজকে
জানান, সংবাদ পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করি।
প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অটোরিকশাটি
ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক)
হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু নিখোঁজের ঘটনায় দেবিদ্বার থানায়
আইনি প্রক্রিয়া চলমান ছিল, তাই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সেখান থেকেই নেওয়া
হবে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় ক্ষোভ ও শোকের ছায়া
বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে
ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
