কুমিল্লায়
সৌদি আরব প্রবাস ফেরৎ এক যুবকের বিরুদ্ধে প্রায় ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের
স্বর্ণ অলংকার আত্মসাৎ ও একাধিক প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত
তৌহিদ কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী
শাহজাহান তানভীরের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকার শাহজাহানপুর থানা সূত্রে
জানা যায়, সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় আত্মীয়তার বিশ্বাসে নিজের ক্রয়কৃত
স্বর্ণ অলংকার তৌহিদের কাছে দেন তানভীর। এসব স্বর্ণ ঢাকার শাহজাহানপুর
এলাকায় তার বাবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও অভিযুক্ত তা হস্তান্তর না
করে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫
এপ্রিল সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন তৌহিদ। সে সময় তার কাছে আনুমানিক ৬৭ লাখ
টাকা মূল্যের স্বর্ণ অলংকার ছিল। কিন্তু নির্ধারিত স্থানে স্বর্ণ বুঝিয়ে না
দিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শাহজাহানপুর থানায়
মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তৌহিদকে আটক করে
জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দাবি করেন, স্বর্ণ অলংকারগুলো ছিনতাইকারীরা নিয়ে
গেছে। তবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় তার বক্তব্যের সত্যতা
পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী শাহজাহান তানভীর জানান,
ঘটনার পর অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকার ব্ল্যাংক চেক ও ৩০০
টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে দ্রুত টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে
তৌহিদকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো টাকা
ফেরত দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন
বন্ধ পাওয়া যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা চাইতে অভিযুক্তের বাড়িতে
গেলে তাকে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দেওয়া হয় এবং স্বর্ণ বা টাকা ফেরত দেওয়া হবে
না বলে জানানো হয়।
এ ঘটনায় শাহজাহান তানভীর কুমিল্লা পুলিশ সুপার বরাবর
আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় কুমিল্লা ডিবির
সাব-ইন্সপেক্টর সঞ্জয়কে। তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে উভয় পক্ষকে তলব করা
হলেও অভিযুক্ত তৌহিদ হাজির হননি। তদন্তকালে তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া
যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও অন্যান্য ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তৌহিদের
বিরুদ্ধে এর আগেও বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক
প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। কুমিল্লা ইপিজেড এলাকায় চাকরিকালীন সময়ে চারজন
যুবকের কাছ থেকে সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা
করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার চাচাতো ভাই রিফাত ও আরিফের কাছ থেকে ২
লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়িতে জমা রয়েছে।
এ বিষয়ে
শাহজাহানপুর থানা পুলিশ ও কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয় জানিয়েছে,
অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী শাহজাহান তানভীর বলেন, “তৌহিদ আমার
সরলতার সুযোগ নিয়ে আমাকে নিঃস্ব করেছে। আমি আমার স্বর্ণ অলংকার উদ্ধারে
প্রশাসনের সহযোগিতা এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
অন্যদিকে
অভিযুক্ত তৌহিদের বাবা এরশাদুল জামান বলেন, “আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা
করেছি। কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে, বাকি টাকা আইন অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে
