দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে যত
মানুষ মারা যায়, তাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র ২০২৫
সালে সড়কে প্রাণ হারিয়েছে ৫৯১ জন শিশু। এর মধ্যে এক মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী
নিহত শিশুর সংখ্যা ১৭৯ জন। ছয় থেকে ১২ বছর বয়সী ৩৮২ জন। একই সময়ে ৪৪৭ জন
কিশোর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে, যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছর।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
সংস্থাটির
নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান সই করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক ও সড়ক
পরিবহণ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অসচেতনতার কারণেই
শিশুদের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
রোড
সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবশেষ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক হাজার
আট জন নিহত হয়েছেন, যাদের বয়স এক মাস থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
৯টি জাতীয়
দৈনিক, সাতটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থাটির
নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয় বলে জানায় সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় ও
বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলাধুলার সময় শিশু নিহতের ঘটনা বেশি ঘটছে। বিশেষ
করে গ্রামীণ সড়কে পথচারী হিসেবে শিশুদের হতাহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কারণ,
এসব সড়ক অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বসতবাড়ি ঘেঁষা এবং অনেক এলাকায় ঘরের দরজা
খুললেই সড়কে পড়তে হয়।
প্রতিবেদনে শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধির প্রধান কারণ
হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুদের জন্য অনিরাপদ সড়ক ও সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা,
সড়ক ব্যবহারে শিশুদের সচেতনতার অভাব, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত
দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের দ্বারা
যানবাহন চালানো, দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার
অভাব এবং চিকিৎসা ব্যয়ে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা।
প্রতিবেদনে বেশ কিছু
সুপারিশ দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। তারা বলছে, সড়ক ও সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা
শিশুদের জন্য নিরাপদ করতে হবে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক
ব্যবহারে শিশুদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের
বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে সড়ক
দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা সুবিধা ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আহতদের
চিকিৎসায় বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন করতে হবে। একইসঙ্গে সড়ক পরিবহণ আইন-২০১৮
কঠোরভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে সুপারিশে।
