বাংলাদেশ
ও ভারতের সঙ্গে দ্বীপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে কলকাতায় বাংলাদেশ
উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব তারিক চয়ন বলেছেন, পারষ্পরিক স্বার্থের কথা
চিন্তা করে ভারতের অনেকেই চায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বীপাক্ষিক সম্পর্ক
সুন্দর হোক সে রকম আমরাও চাই। বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক দেশেরই দ্বীপাক্ষিক
সর্ম্পক রয়েছে, আবার অনেকের সঙ্গে নেই, সেগুলো ভবিষ্যতে স্থাপিত হতে পারে।
যেকোন সম্পর্কেই টানাপোড়েন তৈরী হয় এবং উত্থান পতন থাকে। উত্থান পতন জীবনের
চলার পথেও থাকে। এভাবেই চলতে থাকবে আবার সেগুলো স্বাভাবিকও হবে।
মঙ্গলবার
(১৩ জানুয়ারি) বিকালে তারিক চয়নের পৈত্রিক বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার
উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুরে অবস্থিত আব্দুল মজিদ ভূঁইয়া ও হালিমা
খাতুন হাফেজিয়া মাদরাসা মাঠে গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে দুুপুরে তারিক চয়ন ও তাঁর স্ত্রী ঢাকা
হাইকোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইসরাত জাহানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও
ক্রেস্ট প্রদান করে সংবর্ধিত করেন গ্রামবাসী। এসময় এ্যাডভোকেট মাহমুদুল
হাসান, জাফরগঞ্জ ইনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস মিয়া, ইউপি
সদস্য মো.জাকির হোসেন মেম্বার, মো. জয়নাল মেম্বারসহ গ্রামের বিভিন্ন
পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস সচিব তারিক চয়ন আরও বলেন, আমরা
যে জায়গায় আছি আমি বলব ‘হোপ ফর দ্যা বেস্ট’ আমরা আশাবাদি যে সবচেয়ে ভালো
যা বা সেরা যেটা সেটার জন্য আমরা অপেক্ষা করি। আরেকটি বিষয় যে ডিপলোমেসির
ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ‘জনগণের সাথে জনগণের সর্ম্পক’ আমরা বিশ্বাস
করি শুধুই ভারতই নয় পৃথিবীর যতগুলো রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বীপাক্ষিক
সম্পর্ক রয়েছে প্রতিটি রাষ্ট্রই জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ককে গুরুত্ব
দিক।
ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে তারিক চয়ন
বলেন, আমরা মনে করি কোন দেশের অভ্যান্তরীণ বিষয়ে আমরা যেমন হস্তক্ষেপ করতে
পারি না অন্যকোন দেশও আমাদের অভ্যান্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
বর্তমান সময়ে স্যোসাল মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার
পাশাপাশি মূল ধারার গণমাধ্যমও আছে। ভারতের অনেক মিডিয়া আছে যারা
প্রপাগান্ডা ছড়ায় এটা আমাদের দেশেও আছে। আমি বলব যেকোন তথ্য বা সংবাদ সেটা
স্যোসাল মিডিয়া হোক বা মূলধারার গণমাধ্যমের জন্য হোক তা প্রকাশের পূর্বে
আগে ‘ক্রসচেক’ করা উচিত। কারণ এই যুগ যেহেতু ইনফরমেশনের যুগ তেমনি এই যুগ
মিস ইনফরমশনের যুগও। মিস ইনফরমশন আমাদের দেশ ও সমাজকে কুলষিত করছে। যেটাকে
আমরা অপতথ্য বা গুজব বলি। অপতথ্য ও গুজবের বিরুদ্ধে আমরা সামাজিকভাবে
সোচ্চার হবো। আর কেউ যদি ইচ্ছা করেই প্রপাগান্ডা ছড়ায় সেটা ভিন্ন বিষয়।
ভারতীয়
ভিসা সম্পর্কে তারিক চয়ন বলেন, ভিসা কোন অধিকার নয়, ভিসা হলো একটি সুযোগ।
কোন দেশের আপনি ভিসা পেলেন তার মানে আপনি ওই দেশে যাওয়ার সুযোগ পেলেন।
কিন্তু কারও কোন অধিকার নেই যে আপনি ওই দেশেই যেতেই পারব। এমনও আছে ভিসা
পাওয়ার পর অনেক দেশ বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। এটা স্ব স্ব দেশের
একান্তই ব্যক্তিগত বিষয় এবং তাদের নিজেদের যে পলিসি রয়েছে সে বিষয়ে আমার
মন্তব্য না করাই উচিত।
বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতীয়দের মনোভাবের বিষয়ে
তারিক চয়ন বলেন, সবাই চায় নিজ নিজ দেশের ভালো। তেমনি আমার দেশেও যেমন ভালো
মানুষ আছে তেমনি ভারতেও ভালো মানুষ আছে। তাঁরা যায়, তাদের দেশ ও দেশের
মানুষ ভালো থাকুক, তেমনি পাশ^বর্তী দেশও ভালো থাকুক। দুই দেশের দ্বীপাক্ষিক
সম্পর্ক ভালো হোক, পারষ্পরিক স্বার্থ বা মিউচ্যুাল ট্রাস্ট, মিউচ্যুাল
রেসপেক্ট, নন ইন্টারফেয়ার অন্য দেশের প্রতি হস্তক্ষেপ করা এগুলো যারা সু
নাগরিক তাঁরা সেসব বিষয়ে মনে রাখেন তেমনি অন্য দেশের ক্ষেত্রেও মনে রাখেন।
পারষ্পরিক স্বার্থের কথা চিন্তা করে ভারতের অনেকেই চায় যে বাংলাদেশের
সঙ্গে ভারতের দ্বীপাক্ষিক সম্পর্ক সুন্দর হোক সেরকম আমরাও চাই।
