শনিবার ৩ জানুয়ারি ২০২৬
২০ পৌষ ১৪৩২
কুমিল্লায় একাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিএনপির
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৯ এএম আপডেট: ০৩.০১.২০২৬ ১:৩৫ এএম |


  কুমিল্লায় একাধিক আসনে বিদ্রোহী  প্রার্থী উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিএনপির
নিজস্ব প্রতিবেদক।। কুমিল্লার এগারোটি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের বিপরীতে একাধিক হেভিওয়েট বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব প্রার্থী দলীয় প্রার্থীদের ভোটব্যাংকে জোরালো আঘাত হানতে পারেন বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। কারণ, এসব হেভিওয়েট প্রার্থী তৃণমূলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে অনেক ক্ষেত্রেই দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
দলটির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতে, এসব বিদ্রোহী প্রার্থী দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে হামলা-মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের সময় দলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন, ছিলেন তাদের ভরসাস্থল। অথচ সেই ত্যাগী নেতাদের দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যার ফলে কর্মীদের আবেগ ও প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। এ কারণেই অনেকেই বাধ্য হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। ভোট বিভাজনের কারণে বিএনপির জন্য একাধিক আসন হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে বিএনপির ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এর মধ্যে কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। তবে তার বিপরীতে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস ইঞ্জিনিয়ার এমএ মতিন। তিনি এই আসনের একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ও হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত ও জনপ্রিয়।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া পার্শ্ববর্তী উপজেলা মেঘনার বাসিন্দা। অথচ তিনি কুমিল্লা-২ হোমনা ও তিতাস আসন থেকে নির্বাচন করছেন। ফলে এই এলাকার সাধারণ ভোটারদের কাছে তিনি তুলনামূলকভাবে অপরিচিত। যার কারণে বিএনপি এই আসনটি দলীয়ভাবে ধরে রাখতে পারবে কিনা, সে প্রশ্নের উত্তর দেবে ভোটাররাই।
এদিকে কুমিল্লা-৬ সদর আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। তবে তার বিপরীতে একই আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। তিনি দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত হেভিওয়েট নেতা এবং আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে হামলা-মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য ছিলেন একপ্রকার কান্ডারী।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সেই হাজী ইয়াছিনকেই দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দলীয় মনোনীত প্রার্থীর তুলনায় তিনি সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীদের কাছে অনেক বেশি জনপ্রিয়। ফলে একই আসনে একই দলের দুইজন শক্ত প্রার্থী থাকায় তৃতীয় পক্ষ সুবিধা নিতে পারে। এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এ আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ভোট বিভাজনের কারণে এই আসনটি উদ্ধার করতে বিএনপিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
অন্যদিকে কুমিল্লা-৭ চান্দিনা আসনেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ আসনে কুমিল্লা চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওনকে বাদ দিয়ে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এলডিপির সাবেক মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদকে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা আতিকুল আলম শাওন জনপ্রিয়তার বিচারে একজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু তাকে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে চান্দিনার কর্মীদের পাশে ছিলেন। নেতাকর্মীরা বলেন, রেদোয়ান আহমেদ এলডিপির মহাসচিব ছিলেন। হঠাৎ করে তাকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মীদের আবেগ ও প্রত্যাশা পূরণে আতিকুল আলম শাওন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। ফলে দলীয় মনোনীত প্রার্থী ও একই দলের শক্ত বিদ্রোহী প্রার্থী একে অপরের মুখোমুখি হওয়ায় এ আসন হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ এখানে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ একাধিক দলের প্রার্থীরও উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা রয়েছে। দলের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এই আসনটি হারাতে পারে বিএনপি,এমনটাই মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
এছাড়া কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালামের বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত কর্নেল এম আনোয়ারুল আজিমের কন্যা সামিরা আজিম দোলা।
২৪-এর ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আনোয়ারুল আজিম মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর লাকসাম-মনোহরগঞ্জের তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ও চাওয়া পূরণে তার কন্যা সামিরা আজিম দোলা বাবার হয়ে মাঠে নামেন। তিনি দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও তাকে বঞ্চিত করা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি নেতাকর্মীদের।
তাদের মতে, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু দলের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে একটি পরিবারকে বঞ্চিত করা হয়েছে।যার ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন, তিনি অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয়তার দিক থেকে পিছিয়ে। একই আসনে দুইজন প্রার্থী থাকায় জামায়াতে ইসলামী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির দুর্গে আঘাত হানতে পারে এবং আসনটি ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
প্রশাসন বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে--হাসনাত
১৬ জনের মনোনয়ন বাতিল
কুমিল্লায় একাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিএনপির
হলফনামায় পরিপূর্ণ তথ্য না থাকায় জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল
মনিরুল হক চৌধুরীর উদ্যোগে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কোটি টাকার দৌড়ে কুমিল্লার প্রার্থীরা কে কত এগিয়ে
দাউদকান্দি সেতুর নিচে উদ্ধারকৃত টাইম বোমা নিষ্ক্রিয়
স্ত্রীর চেয়ে সম্পদ কম মঞ্জুরুল মুন্সীর
ভিপি জহিরুল হক মিঠুনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার
কুমিল্লায় চট্টল এক্সপ্রেস থেকে ভারতীয় কোটি টাকার মালামাল জব্দ বিজিবি'র,
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২