নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হলফনামা অনুযায়ী সম্পদ ও আয়ের চিত্রে ব্যাপক বৈচিত্র্য উঠে এসেছে। কোথাও শত কোটি টাকার সম্পদ, কোথাও আবার কয়েক লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ প্রার্থীর আর্থিক অবস্থান। কুমিল্লা-১ থেকে কুমিল্লা-১১ আসন পর্যন্ত প্রার্থীদের ঘোষিত সম্পদ, বার্ষিক আয় ও কর প্রদানের তথ্যে দেখা যায় কেউ শত কোটি টাকার মালিক, কেউ আবার শিক্ষকতা, ভাড়া কিংবা সম্মানী ভাতার ওপর নির্ভরশীল। কুমিল্লা-১ আসনে ড. মোশাররফ হোসেন ও তার পরিবারের সম্পদ মিলিয়ে প্রায় ৪১ কোটি টাকার বেশি, কুমিল্লা-২ ও ৩ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি থেকে শুরু করে ১৩ কোটিরও বেশি, কুমিল্লা-৪ ও ৫ আসনে সম্পদের পার্থক্য আরও স্পষ্ট, যেখানে কারও আয় কয়েক লাখ আবার কারও আয় কয়েক কোটি টাকা। কুমিল্লা-৬ আসনে শতকোটি টাকার মালিক প্রার্থীর বিপরীতে লাখ টাকার সম্পদের প্রার্থীও রয়েছেন। কুমিল্লা-৭ ও ৮ আসনে দেখা যাচ্ছে সর্বোচ্চ আয়ের প্রার্থী, যেখানে বার্ষিক আয় ৫৯ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। কুমিল্লা-৯, ১০ ও ১১ আসনেও প্রার্থীদের সম্পদ, আয় ও কর প্রদানের তথ্যে ব্যাপক ব্যবধান স্পষ্ট, যা এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. মোশাররফ হোসেনের সম্পদ রয়েছে ১৬ কোটি ৭৪লাখ টাকার। তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমান ১২ কোটি ৩২ লাখ টাকার। আর তার সন্তানদের নামে রয়েছে ১২ কোটি টাকার সম্পদ।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী সেলিম ভূইয়ার সম্পদ রয়েছে ৪ কোটি টাকার। তার বছরে আয় ১৩লাখ ৭২হাজার। এ প্রার্থীর আয়ের উৎস ভাড়া ও ব্যাংকে আমানতে। এদিকে এ আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আমির হোসেনের সম্পদ রয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার। তার বছরে আয় ৭লাখ টাকা। তিনি কর দেন ৩৫ হাজার টাকা।
কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনের বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সম্পদের পরিমান ১ কোটি ৬৬লাখ টাকা। তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমান ১ কোটি ১০লাখ টাকা। তিনি কর দেন সাড়ে ১৩লাখ টাকা। এদিকে এ আসনের জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী মোঃ ইউসুফ সোহেলের বার্ষিক ১৮ লাখ ১২ হাজার। মোট সম্পদের পরিমাণ ১৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এছাড়া তার নামে ৪০ ভরি ও স্বীর নামে ২০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। তিনি কর দেন ৬৫ হাজার টাকা।
কুমিল্লার-৪ দেবিদ্বার আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বছরে আয় ১৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। তার মোট সম্পদ আছে ১ কোটি ৩২লাখ টাকার। এছাড়া তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমান ৩ কোটি ২৬ লাখ ও সন্তানের ৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকার। এদিকে এ আসনের এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর ব্যবসা থেকে বছরে আয় ১২ লাখ ৫৩হাজার টাকা। আর তার মোট সম্পদ ৩১লাখ ৬৭ হাজার টাকার। তিনি কর দেন ১লাখ টাকা।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিনের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮ কোটি টাকার। তিনি কর দেন ৪২ লাখ টাকা। আর তার বছরে আয় ৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এদিকে এ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোবারক হোসাইনের মোট সম্পদের পরিমাণ ৯৪ লাখ টাকার। তার মধ্যে জমি ২০ লাখ এবং ফ্ল্যাট ২৩ লাখ টাকার।
কুমিল্লা ৬ সদর আসনের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর বার্ষিক আয় ৭৪ লাখ টাকা। তিনি বছরে কর দেন ১৭ লাখ টাকা। এদিকে একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি'র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিনের ১০০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রীর সম্পদ রয়েছে ৪৪ কোটি টাকার। এ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সম্পদ রয়েছে ৮৩ লাখ টাকার। তার স্ত্রীর আয় ৫লাখ ২৮হাজার টাকার। তিনি বছরে কর দেন ৭হাজার। এ প্রার্থীর আয়ের উৎস বাড়ি ভাড়া ও সম্মানী ভাতা।
কুমিল্লা-৭ চান্দিনা আসনের এলডিপির সাবেক মহাসচিব ও এ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রেদোয়ান আহমেদ বার্ষিক আয় ৫ কোটি টাকা। এ প্রার্থীর মোট সম্পদ আছে ৮ কোটি ৮১ লাখ টাকার। তিনি কর দেন ২৩ লাখ ৮৬হাজার টাকা। এ আসলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আতিকুল আলম শাওনের সম্পদ ২ কোটি ৪৬লাখ টাকার। তিনি বছরে কর দেন ৪লাখ ৫৪হাজার টাকা।
কুমিল্লা ৮ বরুড়া আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমনের বার্ষিক আয় ৫৯ কোটি টাকা। কর দিয়েছেন ১০ কোটি ৮৭লাখ টাকা। তার মোট সম্পদের পরিমান ২৩১ কোটি টাকা। এদিকে এ আসনের জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী শফিকুল আলম হেলাল শিক্ষকতা করে বছরে পান ২২ লাখ ৮৪হাজার টাকা। তার স্ত্রী টিউশনি করে পান ৫লাখ টাকা।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল কালামের সম্পদের পরিমান ৮১ কোটি টাকা। একই সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমান ১৫ কোটি টাকা। তিনি বছরে কর দেন ১৬ লাখ টাকা আর স্ত্রী কর দেন ৯৮ লাখ টাকা। এদিকে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল এম. আনোয়ারুল আজিমের কন্যা সামিরা আজিম দোলার বছরে বাড়ি ভাড়া থেকে আয় সাড়ে ৭লাখ টাকা। তিনি কর দেন ৫১হাজার টাকা। অন্যদিকে এ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকীর সম্পত্তির পরিমাণ ৭৬লাখ টাকার। এ প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ১২ লাখ টাকা। আর তিনি কর দেন ১ লাখ টাকা।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই)আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গফুর ভূইয়া ৫৫৩ শতক জমির মালিক। এছাড়া তার স্ত্রীর সম্পদ রয়েছে ৭ কোটি টাকার বেশি।
একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূইয়ার সম্পদের পরিমাণ ৯ কোটি টাকার। তার বার্ষিক আয় ৪লাখ ৬৫ হাজার। আর কর দেন ৮ হাজার টাকা মাত্র। এদিকে এ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ইয়াছিন আরাফাতের সম্পদের পরিমাণ ৫৯লাখ ৮৯হাজার টাকা। তার বার্ষিক আয় ৫লাখ ২১হাজার।
কুমিল্লা ১১ চৌদ্দগ্রাম আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সম্পদ রয়েছে ১ কোটি টাকার। তিনি কর দেন ১২হাজার টাকা। তার স্ত্রীর সম্পদ রয়েছে ৪ কোটি ৬৪লাখ টাকার। স্ত্রী কর দেন ৮লাখ টাকা। এই আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুল হুদার বার্ষিক আয় ৮০লাখ টাকা। তার মোট সম্পদ রয়েছে ১০ কোটি টাকার। তিনি কর দেন ২৩ লাখ ৭৮হাজার টাকা।
