নিজস্ব
প্রতিবেদক।। কুমিল্লায় চট্টগ্রামগামী চট্টল এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান
চালিয়ে এক কোটি ৮৬ লাখ টাকা মূল্যের বিশাল অংকের টাকার ভারতীয় অবৈধ মালামাল
জব্দ করেছে বিজিবি। আবারও ট্রেনে এ চোরাই মালামাল জব্দের ঘটনায় নতুন করে
চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে কেবল চোরাচালানই নয় বরং দীর্ঘদিন ধরে
সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের অস্তিত্বও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে দাবি
করছেন সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। কুমিল্লা ১০
বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান,
বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা সদর উপজেলার রসুলপুর রেলওয়ে স্টেশনে সহকারী
কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাফিদ খানের নেতৃত্বে বিজিবি ও
পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টাস্কফোর্স চট্টগ্রামগামী চট্টল এক্সপ্রেস
ট্রেনে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ট্রেনের একাধিক বগিতে তল্লাশি চালিয়ে
মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ মালামাল উদ্ধার করা হয়। যার
মধ্যে ছিল বিভিন্ন প্রকার বাজি, কসমেটিকস সামগ্রী, শাড়ি, বাসমতি চাল ও
ফুচকার মতো পণ্য। জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৮৬ লাখ
৬৮ হাজার ৬৭০ টাকা বলে নিশ্চিত করেছের বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল।
তবে
এই ঘটনার পর পরই সীমান্ত এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আরও
ভয়াবহ তথ্য। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং
কুমিল্লা সীমান্ত ও রেলপথকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী
চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে। যেখানে রেল পুলিশ, স্টেশন মাস্টারসহ
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্তরের কিছু কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।
সীমান্ত
এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ট্রেনের ভেতর এত বড় চালান
ওঠানামা করানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়, যদি না রেল পুলিশের একটি অংশ সরাসরি
সহযোগিতা করে। তারা সব জানে, তবু চোখ বন্ধ করে থাকে।
নিরাপত্তার
স্বার্থে আরেকজন ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামতেই কিছু
নির্দিষ্ট বগিতে মাল তোলা হয়। স্টেশন এলাকায় থাকা রেল পুলিশ তখন
রহস্যজনকভাবে নীরব থাকে। আমরা বহুবার বলেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া
হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য প্রবেশ করার
পর সেগুলো নিরাপদে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে রেলপথকে বেছে নেওয়া হয়। কারণ
এখানে নজরদারি থাকলেও তা কার্যত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে রেল
পুলিশের একটি অংশ চোরাচালানকারীদের নিরাপদ করিডোর হিসেবে রেললাইন ব্যবহার
করতে সহায়তা করছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, স্টেশন মাস্টার পর্যায়ের কিছু
কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে রাখেন। এমনকি কখনো কখনো আগাম তথ্য
দিয়েও দেন। যাতে অভিযানের আগেই চোরাচালানকারীরা সতর্ক হতে পারে। ফলে
মাঝেমধ্যে অভিযান হলেও মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
সীমান্তবর্তী
গ্রামগুলোর বাসিন্দারা বলছেন, এই অবৈধ ব্যবসার কারণে যুবসমাজ বিপথে
যাচ্ছে। অপরাধ বাড়ছে এবং এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। রেল পুলিশের
একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট না থাকলে এত বড় অংকের মালামাল দিনের পর দিন
নির্বিঘ্নে পাচার হওয়া সম্ভব নয়।
কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি
জসিম উদ্দিন বলেন, সীমান্তপথে আসা এ সব ভারতীয় মালামাল ট্রেনে পাচার রোধে
পুলিশের পক্ষ থেকেও বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তারপরও
চোরাকারবারিদের থামানো যাচ্ছে না। কারণ সীমান্তবর্তী শশীদল ও সালদানদীসহ
বেশকিছু স্টেশনে আমাদের পুলিশ সদস্য নেই। আমরা মন্ত্রণালয়ে এবিষয়ে লেখালেখি
করেছি। দ্রুতই অনুমোদন হলে অপরাধ দমনে কাজ করতে সহজ হবে।
কুমিল্লা ১০
বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন,
জব্দকৃত চোরাচালানি মালামাল বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া
চলমান রয়েছে।এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার
কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
