বিশেষ
প্রতিবেদক: কুমিল্লার চান্দিনায় রাতের অন্ধকারে দরজা ভেঙ্গে সিএনজি চালককে
আটক করেছে পুলিশ। এসময় ওই সিএনজি চালক ফেসবুক লাইভে থাকায় মুহুর্তেই ওই
ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। পুলিশ সদস্যরা সিএনজি
চালক, তার স্ত্রী ও সন্তানদের মারধর করেছে বলে অভিযোগ করে ভূক্তভোগী
পরিবার।
শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টায় চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া
ইউনিয়নের নাওতলা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। পরদিন রবিবার (২৮ জুন) সন্ত্রাস বিরোধ
আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে কুমিল্লা
কারাগারে পাঠানো হয়।
আটক সিএনজি চালক মোহাম্মদ আলী চান্দিনার নাওতলা
গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিন এর ছেলে। তিনি মাধাইয়া ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি
বলে দাবি করেন পুলিশ। তবে খোঁজ নিয়ে কৃষক লীগে মোহাম্মদ আলী’র কোন সদস্য পদ
পাওয়া যায়নি। এসময় মোহাম্মদ আলীর ছেলে মেহেদী হাসান (১৫) আহত হয়। তাকে
মাধাইয়ার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
সরেজমিনে
গিয়ে জানা যায়- শনিবার রাতে চান্দিনার নাওতলা গ্রামের হাজী শাহ আলমের
বাড়িতে যান চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক এনামূল হক এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি
দল। তারা মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করতে গেলে তিনি বাইরে থাকা ব্যক্তিদের
পরিচয় জানতে চান। পুলিশ তখনও নিজেদের পরিচয় দেয়নি। এসময় মোহাম্মদ আলী
ফেসবুক লাইভে গিয়ে ঘরের জানালা খুলে বাহিরের লোকজনদের ভিডিও করেন। ওই
ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরের ভেতর থেকে মোহাম্মদ আলী বাইরে থাকা ব্যক্তিদের
পরিচয় জানতে চাইছেন। বাইরে থাকা ব্যক্তিরা তাকে ‘রিপন’ কিনা জানতে চান।
ঘরের ভিতর থেকে এক ব্যক্তি বলেন, ‘এটা রিপন এর ঘর না, আপনারা আসলে কাকে
ধরতে এসেছেন?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে বাহির থেকে এক পুলিশ সদস্য জানান- আমরা
‘মোহাম্মদ আলী’র কাছে এসেছি বলেই পুলিশ দরজা ধাক্কাতে শুরু করেন। পুলিশ এ
কথা বলার পর ফেসবুক লাইভে থাকা মোহাম্মদ আলী বলেন, আপনারা আমাকে ধরতে আসলে
আমার দরজা ভাঙ্গতে হবে না, আমি নিজেই দরজা খুলে বের হবো। মোহাম্মদ আলী’র
এমন কথা বলার সাথে সাথেই ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করেন পুলিশ। অপর
একটি ভিডিওতে পরিবারের সদস্যদের চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা যায়।
আটক
মোহাম্মদ আলীর মেয়ে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার তার পিতার ধারণ
করা ভিডিও’র কথোপকথের কথা স্বীকার করে বলেন- পুলিশ দরজা ভেঙ্গে আমার বাবাকে
ধরতে আসে। আমরা আমার বাবাকে জড়িয়ে ধরলে পুলিশ আমার বাবা ও ভাইকে মারধর
করে। এসময় আমার ভাই মাথায় আঘাত পায়।
এ বিষয়ে জানতে চান্দিনা থানার
উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামূলকে ফোন করলে তিনি কোন কথা না বলে ডিউটি অফিসারের
কথা বলার জন্য বলেন ফোন কেটে দেন।
চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি)
আতিকুর রহমান কুমিল্লার কাগজকে জানান, মোহাম্মদ আলী প্রকৃতপক্ষে সিএনজি
চালক নন। তিনি মারুতি (থ্রি-হুইলার) চালক। বর্তমানে নিজেকে সিএনজি চালক
হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তার
বিরুদ্ধে নাশকতার মামলায় অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি প্রায় এক মাস ধরে পলাতক
ছিলেন। গত রাতে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তার বাড়িতে গেলে তিনি ও
তার স্বজনরা প্রায় এক ঘণ্টা পুলিশ সদস্যদের আইনগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেন।
পরে তিনি পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে পুলিশের
ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেন। তিনি মাধাইয়া শ্রমিক লীগের
সেক্রেটারি। পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলেও তিনি
সময়ক্ষেপণ করে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি
সৃষ্টি এবং সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেছেন।
