কুমিল্লার
মুরাদনগরে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের মাধ্যমে ৫২০ জন অসহায় ও
দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে
ছানি রোগে আক্রান্ত ৬৮ জন রোগীকে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য কুমিল্লার
আলেখার চর চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) উপজেলার চাঁদ
মিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ
চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
মুরাদনগর সমিতি-ঢাকার উদ্যোগে এবং
বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির কুমিল্লা আলেখার চর চক্ষু হাসপাতালের
সার্বিক সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।
চক্ষু শিবিরে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসকেরা চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, ঝাপসা দেখা, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ
ফুলে যাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে
বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করেন।
চিকিৎসা নিতে আসা ৬০
বছর বয়সী শামসুন্নাহার বেগম বলেন, অনেক দিন ধরে চোখে ঝাপসা দেখছি। এখানে
এসে কোনো টাকা ছাড়াই ডাক্তার দেখিয়েছি, ওষুধও পেয়েছি। যারা এই আয়োজন
করেছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
এর আগে চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের উদ্বোধন করেন মুরাদনগর সমিতি-ঢাকার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক খান।
এ
সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মো: জামাল উদ্দিন আহমদ,
সহ-সভাপতি মো: মনিরুল হক ও মো: জহিরুল ইসলাম, মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির
সদস্য সচিব মোল্লা মুজিবুল হক, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের
অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহবুব হোসেন খান (এমরান), মুরাদনগর সদর ইউনিয়ন বিএনপির
সভাপতি ফুল মিয়া সওদাগর, ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
মো: আমজাদ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মনিরুজ্জামান ও মো: মিজানুর
রহমান সরকার, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ. এম. হাবিবুল্লাহ সোহেল,
যুগ্ম-প্রচার সম্পাদক মো: রফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ
মো: মোসলেহ উদ্দীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মুরাদনগর সমিতি-ঢাকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন।
সমিতির
সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো: এনামুল হক খান বলেন, আমরা শুধু বিনামূল্যে চক্ষু
চিকিৎসাই নয়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে মেধাবীদের পুরস্কৃত করে
থাকি। এছাড়া করোনাকাল, বন্যা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় মানুষের
পাশে থেকে সহযোগিতা করে আসছে মুরাদনগর সমিতি-ঢাকা। ভবিষ্যতেও আমাদের এ
ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
