কুমিল্লা-৬
(সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক
চৌধুরীকে কটূক্তির অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি
ফয়জুল করীমসহ দুইজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দায়ের করা
সাইবার সুরক্ষা আইনের সেই মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার
দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি
প্রত্যাহারের আবেদন করেন বাদী জালাল আহমেদ (খোকন তালুকদার)। পরে বিচারক
আবিদা সুলতানা মলি সেই আবেদনটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে
নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ
মামুনুর রশিদ।
মামলার বাদী প্রতাহারের আবদনে উল্লেখ করেছেন ‘মামলা
দায়েরের প্রেক্ষিতে গণ্যমান্য ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করে
দিয়েছেন। এ কারণে আমি সেই মামলা পরিচালনা করবো না। তাই আসামিরা এ মামলা
থেকে খালাস, অব্যাহতি ও মুক্তি পেতে আমার কোনো আপত্তি নাই। এমন অবস্থায়
মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করছি।’
বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. জাফর আলী
বলেন, বিচারক মামলা প্রত্যাহারের আবেদনটি গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে
পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের কাগজ থানায় পৌঁছালে পুলিশ এ বিষয়ে
পদক্ষেপ নেবে।
এর আগে ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি এবং ইউটিউব চ্যানেলে
সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য
করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে গত ২০ জুন মুফতি ফয়জুল করীমসহ দুইজনের
বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে ওই মামলা করেন জালাল
আহমেদ খোকন। মামলার অপর আসামি হলেন, নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর
(উলুরচর) গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে কাদের মিয়াজী (৫০)।
মামলার বাদী
নিজেকে কুমিল্লা মহানগর যুবদলের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক
এবং এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে দাবি করেন। তবে মহানগর বিএনপি ও
যুবদল নেতারা বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় অস্বীকার করায় এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি
হয়। এই বিতর্কের মাঝেই বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে ওই মামলা নিয়ে
আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। এতে তিনি বলেন, ‘আমি
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানতে পেরেছি, আমার নির্বাচনী এলাকা সদর দক্ষিণ থানায়
কেউ একজন চরমোনাই পীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। এ বিষয়ে আমি অবগত
ছিলাম না। কে বা কারা এ মামলা দায়ের করেছেন, সে সম্পর্কেও আমার কোনো জানা
নেই। বিষয়টি জানতে পেরে আমি বিব্রত হয়েছি।
তিনি বলেন, ‘বাদী মামলা
প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছেন। সদর দক্ষিণ থানার ওসি, আমার অ্যাডভোকেটকে এ
বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’
মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন
বলেন, ‘আমার নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর
বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেই আমি মামলা করেছিলাম। মামলা প্রত্যাহার করতে
বলেছেন আমার নেতা (এমপি)। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে মীমাংসা হচ্ছে। তাই মামলাটি
প্রত্যাহার করতে আদালতে আবেদন করেছি। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন।’
সদর
দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি
মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাদী আদালতে আবেদন করেছেন। আদালতের আদেশ থানায়
আসার পর এ বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
