নিজস্ব
প্রতিবেদক: কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য
বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষ চলাকালে ইথান আহমেদ নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ
অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ও
র্যাব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত থেকে মাদক ব্যবসায় বাঁধা
দেয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে
এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে
পড়ে। রাতে পুলিশ মেতায়েন করে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। রাতের
ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিাল স্কুলের
সামনে মাদক বিরোধী মানববন্ধন করে স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর দুপুরেই একদল
অস্ত্রধারী মানববন্ধনের আয়োজক ও অংশগ্রহনকারীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ
সময় গুলিবর্ষণের ঘটনায় পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু
করেন। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ।স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত
চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
মানবন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজন জানান,
দুপুরে হঠাৎ অস্ত্র হাতে একদল লোক মানববন্ধনের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের
বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় তারা গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটালে পথচারী ও স্থানীয়
বাসিন্দারা আতঙ্কে ছোটাছুটি করেন। সংঘর্ষ চলাকালে ইথান আহমেদ প্রেম
গুলিবিদ্ধসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়েশা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনাটি স্কুলের
সামনের রাস্তায় ঘটেছে। টিফিনের বিরতির সময় বাসায় যাওয়ার পথে ইথান
গুলিবিদ্ধি হয়েছে বলে পরে জানতে পেরেছি।’
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স মাসুম বিল্লাহ বলেন, 'দুপুর
দেড়টার দিকে গুলিবিদ্ধ স্কুল ছাত্রকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। গুলি তার পিঠ
দিয়ে ভেতরে চলে যাওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।'
নাম প্রকাশ না
করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, মানববন্ধন শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করে
চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের একটি গ্রুপ অস্ত্র নিয়ে আশপাশের বাড়িঘরে হামলা
চালায় ও গুলিবর্ষণ করে। এসময় ইথান স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ
হয়। তাদের ভাষ্য, প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও অস্ত্রের মহড়ার বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ করার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায়
ভুগছে।
ইথানের মা সোনিয়া আক্তার জানান, আমার ছেলে স্কুলের বিরতিতে
টিফিন খেতে বের হয়েছিলো। এর মধ্যেই পিঠে গুলি লাগে। কুমিল্লা মেডিকেলে রাখে
নাই তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
কোতোয়ালি
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মাদক ও
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপ- দুই পক্ষের
মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায়
জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আর যে ছেলেটি
গুলিবিদ্ধ হয়েছে সে স্কুল থেকে বের হয়ে বাড়ি যাচ্ছিলো বলে শুনেছি। তাকে
উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
