ইসমাইল নয়ন।।
পবিত্র
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে কুমিল্লার কোরবানির পশুর হাট।
তবে এবার হাটের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। বড় আকৃতির গরুর প্রতি আগ্রহ কমে গিয়ে
ক্রেতাদের মূল ঝোঁক এখন ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দিকে।
অতিরিক্ত দাম,
খাদ্য ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা এড়িয়ে অনেকেই সাধ্যের মধ্যে কোরবানি
দিতে চাইছেন। ফলে দেশি জাতের ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি দেখা
যাচ্ছে হাটজুড়ে।
উপজেলার কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ও মাঝারি
আকারের গরু নিয়ে হাটে আসা বিক্রেতাদের কাছে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। দুই থেকে
তিন লাখ টাকার বড় গরুর তুলনায় ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার গরু ঘিরেই বেশি
দরদাম করছেন ক্রেতারা।
উপজেলার সাহেবাবাদ বাজারে গরু কিনতে আসা বাহারুল
ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে সংসারের খরচই সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছে। আয়ের চেয়ে
ব্যয় বেড়ে গেছে। তাই এবার বড় গরুর চিন্তা বাদ দিয়ে মাঝারি গরু দেখছি। এবার
আর বাড়তি চাপ নিতে চাই না।
উপজেলার ধান্যদৌল পশুর হাটে গরু কিনতে
এসেছেন আলী হোসেন। তিনি বলেন, আগে বড় গরুর প্রতি মানুষের আলাদা আকর্ষণ ছিল।
এখন মানুষ হিসাব করে চলে। মাংসের চাহিদা যেমন আছে, তেমনি বাজেটের বিষয়টাও
গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এবার চার শরিককে এক লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যেই গরু
কিনবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সাহেবাবাদ বাজারে দুটি গরু বিক্রির জন্য
নিয়ে এসেছেন আবুল হাসেম নামের এক গৃহস্থ। তার দুটো গরুই মাঝারি আকারের।
তিনি বলেন, কোরবানির হাটে বিক্রি করব বলে এক বছর ধরে অনেক যত্ন করে গরু
পালন করেছি। মাঝারি গরু হওয়ায় ক্রেতারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বড় গরুর চেয়ে এসব
গরু দ্রুত বিক্রি হচ্ছে।
তবে বড় গরু নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন
খামারি ও গৃহস্থরা। নজরুল ইসলাম নামে এক খামারি উপজেলার দুলালপুর বাজারে
চারটি বড় গরু নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। বড় গরু
পলান করতে খরচও বেশি। কিন্তু বাজারে সেই অনুযায়ী দাম বলছে না। ক্রেতারা এখন
ছোট ও মাঝারি গরুতেই বেশি আগ্রহী। বড় গরু বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি
হয়েছে। হাটে চারটি গরু নিয়ে এসেছি, এখন পর্যন্ত দুজন ক্রেতা দাম বলেছেন।
সাহেবাবাদ
বাজারে গরু নিয়ে আসা খামারি আলতাফ হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরে কোরবানির
বাজারে ক্রেতাদের মনোভাব বদলেছে। আগে যেখানে বড় গরু সামাজিক মর্যদার প্রতীক
হিসেবে বিবেচিত হতো, এখন সেখানে অনেকেই প্রয়োজন ও সামর্থ্যের সমন্বয় করেই
পশু কিনছেন। ফলে দেশি জাতের স্বাস্থ্যবান মাঝারি গরু বাজারে বেশি বিক্রি
হচ্ছে।
কথা হয় কয়েকটি হাটের আয়োজকদের সঙ্গে। তারা জানান, এখন বেচাকেনা
তেমন একটা হচ্ছে না। অনেকেই গরুর দাম যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বাজার ঘুরে
দেখছেন। যাই বেচাকেনা হচ্ছে এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই ছোট ও মাঝারি আকারের
গরু। তবে সামগ্রিকভাবে এবার কোরবানির হাটে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি।
ঈদ আরও ঘনিয়ে এলে কোরবানির হাটগুলোতে বিক্রি আরও বাড়বে।
