
কুমিল্লার
চান্দিনায় সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে স্কুল মাঠ ও সড়ক দখল করে এবারও
গরুর হাট বসেছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের মাঠে খুঁটি বসিয়ে গরুর হাট
চলছে।
সরেজমিনে উপজেলার শ্রীমন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দোল্লাই নবাবপুর
উচ্চ বিদ্যালয়, ধেরেরা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও গরুর
হাট বসেছে। এছাড়া চান্দিনা উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের বড়ইয়াকৃষ্ণপুর বাজার
এলাকায় সড়ক দখল করে গরুর হাট বসায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
খোঁজ
নিয়ে জানা যায়, দোল্লাই নবাবপুর বাজার সংলগ্ন একটি গরু বাজার রয়েছে। ওই
বাজারটি বাৎসরিক ইজারা দেয় সরকার। তবে ঈদ মৌসুমে ওই বাজার সংকুলান না হওয়ায়
দীর্ঘ কয়েক যুগ যাবৎ দোল্লাই নবাবপুর আহসানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও দোল্লাই
নবাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ঈদের বাজার হচ্ছে।
অপরদিকে,
ধেরেরা ও শ্রীমন্তপুর গরুর হাট শুধুমাত্র ঈদ মৌসুমে ইজারা দেয়া হয়। ওই
দুইটি স্থানে সরকারি তেমন কোন জায়গা না থাকলেও বছরের পর পর অস্থায়ী গরুর
হাট ইজারা দেয়ার ফলে বাধ্য হয়েই স্কুল মাঠে খুটি বসিয়ে হাট পরিচালনা করছেন
ইজারাদাররা।
সোমবার (২৫ ) সরেজমিনে দেখা যায়, বড়ইয়াকৃষ্ণপুর বাজারের
ব্যস্ততম আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। কোথাও
কোথাও পুরো রাস্তা দখল করে পশু দাঁড় করিয়ে দরদাম চলছে। সড়কে মানুষের ভিড়,
পশুর মল-মূত্র আর কাদায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের ভেতরে
ঢুকতেই থমকে যায় যানবাহন। মোটরসাইকেল, সিএনজি কিংবা জরুরি রোগীবাহী যানও
চলাচল করতে পারছে না।
স্থানীয়রা বলছেন, এটি কোনো গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা
নয়; বরং কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার একাধিক উপজেলার মানুষের যাতায়াতের
গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে এ পথে। অথচ
সেই সড়কই এখন ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণে ‘অস্থায়ী পশুর হাটে’ পরিণত হয়েছে।
ক্ষুব্ধ
যাত্রী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “রাস্তা দিয়ে চলাচল করার কোনো উপায় নেই।
মনে হচ্ছে সড়ক না, যেন গরু বাজার। প্রশাসন কি কিছুই দেখে না?”
নাম
প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, হাট বসতেই পারে, কিন্তু
রাস্তা বন্ধ করে কেন? অ্যাম্বুলেন্স গেলে কী হবে? আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস
ঢুকবে কীভাবে?
অভিযোগ রয়েছে, প্রতি বছরই প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সড়কের উপর পশুর হাট বসানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে এ বিষয়ে বাজার ইজারাদারদের বক্তব্য নিতে একাধিকবার চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
চান্দিনা
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান- আমরা কোন
স্কুল মাঠ ইজারা দেইনি। ইজারাদাররা নিজেদের জায়গায় গরুর হাট বসানো শর্ত
সাপেক্ষে ইজারা নিয়েছে। স্কুল মাঠ ও সড়কে যারাই গরুর হাট বসিয়েছে খোঁজ নিয়ে
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
