নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা
নগরীর মুন্সেফবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ
উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামী মেহেদী
হাসান হৃদয়কে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। রোববার
(২৪ মে) দুপুরে তাকে কারাগার থেকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।
পুলিশ
জানিয়েছে, ফারিহার মৃত্যুর ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে
হৃদয়কে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা,
জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
কোতয়ালী
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “আসামিকে দুই
দিনের জন্য রিমান্ডে আনা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা
হবে। আশা করছি, গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য বেরিয়ে আসবে।”
মামলার তদন্ত
কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) অমর্ত্য মজুমদার জানান, রোববার রাত থেকেই
জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই
করা হচ্ছে।
এদিকে, গত ৫ মে রাতে ফারিহার মৃত্যুর পর থেকে তার পরিবার ও
স্বজনদের আহাজারি থামছে না। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, ফারিহাকে হত্যা করে
আত্মহত্যা হিসেবে ঘটনাটি সাজানো হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, মরদেহ উদ্ধারের
সময় ফারিহার এক পা বিছানায় এবং অন্য পা চেয়ার স্পর্শ করা অবস্থায় ছিল। ঘরের
পরিবেশও ছিল স্বাভাবিক ও পরিপাটি, যা আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে
অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি পরিবারের।
ফারিহার বাবা, একজন স্কুল শিক্ষক,
অসুস্থ শরীর নিয়েও মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করে চলেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে
অভিযোগ করা হয়েছে, প্রভাবশালী মহলের কারণে তদন্তে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা
রয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
গত
২১ মে নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী ফারিহা হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন
কর্মসূচি পালন করেন। ফারিহা ওই বিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ
ঘটনায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান
ডা. শারমিন সুলতানা বলেন, “ঘटनাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঢাকা থেকে
প্রয়োজনীয় পরীক্ষার রিপোর্ট পেলেই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।”
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর
ডা. মির্জা মো. তায়েবুল ইসলাম বলেন, “ময়নাতদন্ত রিপোর্টে কোনো ধরনের
হস্তক্ষেপ বা টেম্পারিংয়ের সুযোগ নেই। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই রিপোর্ট
প্রস্তুত করা হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২০ মে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল
ম্যাজিস্ট্রেট (১ নম্বর আমলি আদালত) মমিনুল হকের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা
পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড
মঞ্জুর করেন।
গত ৫ মে রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টির মুন্সেফবাড়ি
এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ফারিহার মরদেহ
উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার সিসিএন বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের
১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রেমের
সম্পর্কের পর গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে
পারিবারিকভাবে ফারিহার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবিকে
কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে থাকে। পরিবারের দাবি,
সেই নির্যাতনের ধারাবাহিকতাতেই ফারিহার মৃত্যু হয়েছে।
