কুমিল্লায়
একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গোপনে করা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র
করে এনসিপির দুই নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের
অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
রবিবার (২৪ মে)
বিকালে দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়নের খাদঘর বড়বাড়ি এলাকার ফরিদ মার্কেটে
এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দেবিদ্বার থানায় একটি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি
নিচ্ছে বলে জানায় ভুক্তভোগী এনসিপি নেতা ফয়সাল ও সাব্বির। তারা দুইজন ওই
ইউনিয়নের এনসিপির সদস্য বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার
খাদঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন গোপনে করার
চেষ্টা করে স্থানীয় বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন, সফিকুল ইসলাম, জাহিদ,
শাহীন ও নুর মোহাম্মদসহ আরও কয়েকজন। খবর পেয়ে এনসিপি নেতা মো. ফয়সাল ও
সাব্বির হোসেনসহ আরও কয়েকজন এসে বাঁধা দেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে
বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি
তাৎক্ষনিক সমাধান হয়। পরে রবিবার দুুপুরে এনসিপি নেতা মো.ফয়সাল ও সাব্বির
হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
এনসিপি
নেতা ফয়সাল ও সাব্বির বলেন,শনিবার স্কুলের একটি কক্ষ বন্ধ করে গোপনে
স্কুলের কমিটি ম্যানেজিং কমিটি গঠনের চেষ্টা করে বিএনপির কয়েকজন নেতা। খবর
পেয়ে আমরা গিয়ে বাঁধা দেই। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। রবিবার
দুপুরে বিএনপির একদল লোক আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক
ভাঙচুর ও লুটপাট করে বিএনপির কর্মীরা। দোকানে কোরবানির জন্য সংরক্ষিত প্রায়
সাড়ে ৭ লাখ টাকা, ৬টি বাসের গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্স ও কাগজপত্র, জমির মূল
দলিল-খতিয়ানসহ ডেকোরেশন ও লাইটিংয়ের বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
খাদঘর প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভিন আক্তার বলেন, ঈদের পর ম্যানেজিং কমিটির
তালিকা জমা দেওয়ার কথা। আমি গ্রামের কয়েকজনকে নিয়ে কমিটির নাম রাফ তালিকা
করার বসি। এমন সময় কয়েকজন এসে স্কুলে গন্ডগোল লাগায়, পরে আমি স্কুলের গেইট
তালাবদ্ধ করে ফেলি। বাহিরে কি হইছে আমরা আর জানিনা। আমি ভিতরে কাগজপত্র
নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপির সাবেক নেতা সাখাওয়াতস
হোসেন বলেন, শনিবার আমরা গ্রামের লোকজন বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনের জন্য বসি।
শেষ পর্যায়ে এসে এনসিপির কয়েকজন নেতা তাসলিম আহমেদ বাবু নামে একজনকে সভাপতি
ঠিক রেখে বাকি পদে অন্যদের নাম দিতে বলেন এ নিয়ে মারামারি ও ধাক্কাধাক্কি
হয়। পরে সোহেল নামে একজন মারধর করা হয়। আমি এখন কুমিল্লায় ফয়সাল ও
সাব্বিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কারা ভাঙছে তা আমি জানিনা। এখানে তো আরও
অনেকের দোকান ছিল তাদের জিজ্ঞাসা করলে বলতে পারবে। এখন শুনতেছি তারা আমার
নামে মামলা করবেন। দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান
বলেন, হামলা ভাঙচুরের কোন খবর পায়নি। তবে এই ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ
দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।
