
নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। তবে ঈদযাত্রার শুরুতেই রাজধানীর বিভিন্ন পথে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। অল্প দূরত্বের পথ পার হতেই যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া তীব্র গরমের মধ্যে বসে থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বাস টার্মিনালগুলোয় সকাল থেকেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-সিলেট এবং যমুনা সেতু মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও সরকার ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোয় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পরিকল্পনার আওতায় আট মহাসড়কের ১১৩ স্থানকে যানজটপ্রবণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চাপ সামলাতে এসব পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাসড়কসংলগ্ন পশুর হাট বসা, চলমান সড়ক ও সেতুর নির্মাণকাজ, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো, টোল প্লাজায় ধীরগতির টোল আদায় ইত্যাদি কারণে যানজট পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রেলের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। ঈদে যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে ঈদে অনলাইনে টিকিট কাটা নিয়ে যাত্রীদের বড় ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার পর ১ মিনিটেই সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাহিদা বিবেচনায় রেল কর্তৃপক্ষ আরও বেশি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করলে ভালো হতো। এদিকে সড়কপথে বাস কোম্পানিগুলো ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ঈদের এ সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও এগুলো দেখার যেন কেউ নেই। মানুষের প্রয়োজনের কারণে নিরুপায় হয়ে বেশি টাকা দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করেন যাত্রীরা। এভাবে নৈরাজ্যের কাছে হার মানতে হয় ঘরমুখী মানুষের।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থায় বাসের ভাড়া নির্ধারণ করলেও তা বাস্তবায়ন বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। যেভাবে বাস চলছে, তাতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যক্তিমালিকানায় অসংখ্য কোম্পানির বাস চলছে। এ ক্ষেত্রে বাসগুলো যদি নির্দিষ্ট কোম্পানির আওতায় চলত, সে ক্ষেত্রে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। ঈদের সময় সড়কপথে আরেকটি বড় সমস্যা হলো ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল বেড়ে যাওয়া। অতিরিক্ত মুনাফার আশায় পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনও দূরপাল্লার রাস্তায় নেমে পড়ে। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি পরিবহনগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটিতে সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
আসন্ন ঈদকে ঘিরে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি কম নেই। তাই সরকারকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিবছরই ঈদ আসে কিন্তু সমস্যার কোনো টেকসই সমাধান হয় না। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সড়কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে রেল ও নৌপথে যাত্রী পরিবহন বাড়াতে হবে। তবে সরকার ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরায় নজরদারি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঈদযাত্রায় কোটি কোটি মানুষ আনন্দ উৎসব যাতে নির্বিঘ্নে করতে পারে, সে জন্য সরকার সাময়িক সমাধানের বদলে টেকসই ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করবে, সেটিই আশা করছি।
