
কুমিল্লার
চান্দিনায় স্বামীর ঘর থেকে দুই সন্তানের জননী মাহমুদা আক্তার (২৮) নামে এক
গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পিতার পরিবারের অভিযোগ গৃহবধু
মাহমুদাকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। স্বামীর পরিবারের দাবি
বিষপানে আত্মহত্যা করেছে গৃহবধু মাহমুদ। তবে এ ঘটনার পর স্বামী, শ্বশুর ও
শ্বাশুরী পালিয়ে যাওয়ায় মাহমুদার মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল দেখা দেয়।
শুক্রবার
(২২ মে) দিনগত রাতে ১টায় চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের বাড়েরা গ্রামের
মাছ ব্যাপারী কাশেম ভূইয়ার বাড়ির স্বামীর ঘর থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে
পুলিশ।
নিহত মাহমুদা আক্তার একই উপজেলার মহিচাইল ভূইয়াপাড়া সাবেক ইউপি
সদস্য কামাল মিয়ার মেয়ে। নিহত মাহমুদা এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের
জননী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- প্রায় এক যুগ আগে পারিবারিক ভাবে
বাড়েরা গ্রামের আবুল হাসেম এর ছেলে মো. জাকির হোসেন এর সাথে বিবাহ হয়
মাহমুদা আক্তারের। বিবাহের পর থেকে শ্বশুর আবুল হাসেম বিভিন্ন অযুহাতে
মাহমুদার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। সম্প্রতি পারিবারিক
কলহে রাগ করে মাহমুদ বাবার বাড়ি চলে যায়।
নিহতের চাচা আলাউদ্দিন জানান-
দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় মাহমুদাকে আমরা বুঝিয়ে
শুনিয়ে স্বামীর বাড়ি পাঠাই। আমার ভাতিঝি আমাদের বাড়ি থেকে যাওয়ার কিছুক্ষণ
পর তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ফোন করে জানায় আমার ভাতিঝি অসুস্থ। খবর পেয়ে
আমরা রাত অনুমান ৯টায় বাড়েরা তার শ্বশুর বাড়ি এসে দেখি আমার ভাতিঝি মারা
গেছে। প্রকৃতপক্ষে আমার ভাতিঝির স্বামী ও শ্বশুরসহ অন্যান্যরা তাকে শারীরিক
নির্যাতন করে হত্যা করে। পরবর্তীতে আমরা থানায় খবর দিলে পুলিশ রাত ১টায়
নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
সরেজমিনে বাড়েরা নিহতের স্বামীর বাড়ি ও
আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়- গৃহবধু মাহমুদা তার বাবার বাড়ি
থেকে অটোরিক্সা যোগে আসার পথে কয়েকবার বমি করে। বাড়িতে আসার পর আরও অসুস্থ
হয়ে পড়লে তাকে চান্দিনার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত
চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আতিকুর
রহমান জানান- প্রাথমিকভাবে হত্যা বা আত্মহত্যার তেমন কোন আলামত পাওয়া
যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
পাঠানো হয়েছে। নিহতের চাচা আলাউদ্দিন বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের
করেছেন। আমরা মামলা গ্রহণ করেছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং
মামলাটি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
