নিজস্ব
প্রতিবেদক: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং শিশুদের
সুরক্ষা নিশ্চিতে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন
হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়
চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন। একই বেঞ্চ এদিন হাম
প্রাদুর্ভাবে ব্যর্থতা অনুসন্ধানে কমিশন গঠন কেন নয়, তা জানতে চেয়ে আরেকটি
রুল জারি করেন।
সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাওয়া রিটের পক্ষে আদালতে
আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে
মারা যাওয়া ৩৫২ (ওই সময় পর্যন্ত) শিশুর প্রত্যেক পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে
ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া রিটের ওপর আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন
ধার্য ছিল। এর ধারাবাহিকতায় রুলসহ আদেশ দেন আদালত।
রুলে দেশে হামের
প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য
সংস্থা (ডব্লিউএইচও), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং রোগতত্ত্ব,
রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রতিনিধি সমন্বয়ে ১০
সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কেন গঠন করা হবে না এবং হামের প্রাদুর্ভাবে মারা
যাওয়া শিশুদের প্রত্যেকের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ
দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন উচ্চ আদালত। একই আদালত আরেক রিটের ওপর
শুনানি নিয়ে হামের প্রাদুর্ভাবের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা অনুসন্ধানে
একটি ইনকোয়ারি (অনুসন্ধান) কমিশন কেন গঠন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল
জারি করেছেন।
জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল
মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। আদালত থেকে বের হওয়ার পর সৈয়দ মামুন মাহবুব জানান,
চলমান চিলড্রেন ট্র্যাজেডির ওপর তদন্তের জন্য কারা দায়ী, কেন রাষ্ট্র
দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলো–এসব বিষয় জানতে একটি ইনকোয়ারি কমিশন কেন গঠন করা
হবে না, এ মর্মে রুল দিয়েছেন আদালত।
হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার
বাইরে বেসরকারি খাতে দেওয়ার অভিযোগে গত রবিবার এ রিট দায়ের করা হয়। এতে
তদন্ত কমিটি গঠন এবং সাবেক অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.
মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ না হওয়া
পর্যন্ত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এ-সংক্রান্ত
শুনানিতে আজ আদালত প্রশ্ন রাখেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
তো পালিয়ে যাচ্ছেন না। তাই তিনি ও সাবেক সব উপদেষ্টাসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে
নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা দেওয়ার কী আছে? এ সময় আদালত, দেশে সাবেক প্রধান
উপদেষ্টার ব্যবসাসহ অনেক কিছু রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য খাতে
দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলমান হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলে সাবেক
অন্তর্র্বতী সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ উল্লেখ করে ড. ইউনূসসহ
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এতে
সংশ্লিষ্ট ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
