শনিবার ১৬ মে ২০২৬
২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছোট করদাতাদের রেহাই দিয়ে রাঘববোয়ালদের ধরুন
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১:১৯ এএম |

ছোট করদাতাদের রেহাই দিয়ে রাঘববোয়ালদের ধরুন
গত বছরের মে মাসে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ে তৈরি একটি প্রতিবেদনে ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব, যোগসাজশের দুর্নীতি, দীর্ঘসূত্রতার’ কারণে এনবিআর রাজস্ব লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছিল। বছর পেরিয়ে গেলেও এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত ‘রাঘববোয়ালদের খোঁজ নেই, ছোট করদাতাদের হয়রানি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সে চিত্রই উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রায় ৮৮ হাজার আয়কর রিটার্ন অডিট বা নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করেছে। এ নিয়ে বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। এনবিআর যাদের আয়কর রিটার্ন অডিটের (নিরীক্ষা) আওতায় এনেছে, তাদের বেশির ভাগই স্বল্প আয়ের নিয়মিত করদাতা। তাদের অনেকে এরই মধ্যে আয়-ব্যয়ের কাগজপত্র নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে ছুটছেন। তদন্ত কর্মকর্তারা এসব আয়করদাতার কাছে ‘এই কাগজ, সেই কাগজ’ লাগবে বলে হয়রানি করছেন। নিয়মিত কর দিয়েও স্বল্প আয়ের করদাতারা অডিটের জালে নাস্তানাবুদ হচ্ছেন। অন্যদিকে যারা বড় মাপের সম্পদশালী করদাতাদের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। এনবিআরের হিসাব অনুসারে, এই বড় করদাতাদের কাছে এনবিআরের বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকার বেশি।
এ নিয়ে কর বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, স্বল্প আয়ের করদাতার কাছ থেকে যে রাজস্ব আদায় হয়, সুপার ট্যাক্স গ্রুপের (বড় মাপের) করদাতাদের কাছ থেকে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি আদায় হয়। বকেয়া রাজস্বের প্রায় সবই সম্পদশালীদের কাছে পাওনা। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ বলেছেন, এনবিআরের উচিত বড় মাপের করদাতাদের কাছ থেকে বেশি পরিমাণের কর আদায়ে মনোযোগী হওয়া। তাদের কাছ থেকে বকেয়া আদায় করা হলে রাজস্ব ঘাটতি থাকবে না। এনবিআর যে প্রায় ৮৮ হাজার করদাতার রিটার্ন অডিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে সিদ্ধান্তকে তিনি এনবিআরের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন। কেননা, যাদের এই অডিটের আওতায় আনা হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই হয় চাকরিজীবী অথবা ছোট ব্যবসায়ী। তাদের এভাবে করসীমায় আসতে বাধ্য করায় অডিটের নামে তারা হয়রানির শিকার হবেন। এনবিআরের উচিত এসব ছোট করদাতার পেছনে সময় ব্যয় না করে বড় করদাতাদের দিকে নজর দেওয়া।
একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী। তার পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, ছোটদের চেয়ে বড় মাপের করদাতারা কর ফাঁকি দেন বেশি। তারা মামলা করেও কর ফাঁকির টাকা আটকে রাখেন। মামলা বছরের পর বছর চলতে থাকে। এতে রাজস্ব আদায়ও আশানুরূপ হয় না। স্বল্প আয়ের করদাতারা এমনিতেই সীমিত আয়ের মধ্যে থেকে জীবনযাপন করছেন। মূল্যস্ফীতির চাপে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের অডিটের ঝামেলায় না ফেলাই ভালো। এনবিআর এসব করদাতার সঙ্গে এ রকম আচরণ করলে ভবিষ্যতে নতুন করে অনেকেই কর দিতে আগ্রহী হবেন না। বিশিষ্ট আইনজীবী মনজিল মোরসেদও বলেছেন, এনবিআরের কর এড়িয়ে চলাদের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। তার মতে, এনবিআরের দৃষ্টি সব জায়গাতেই থাকা দরকার। তবে যারা কর এড়িয়ে চলছেন, তাদের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। করের আওতায় যারা নেই, তাদের করের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এনবিআরের বিরুদ্ধে সাধারণ করদাতাদের হয়রানির অভিযোগ অনেক পুরোনো। প্রায় প্রতিবছর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের মতো সংস্থা তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ করে আসছে। এই মুহূর্তে যে ৮৮ হাজার স্বল্প আয়ের ছোট মাপের করদাতার রিটার্ন ফাইল অডিটের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। সংখ্যাটি অনেক বেশি, ঢালাওভাবে হরেদরে অডিট করা হচ্ছে কি না, এনবিআরের তা খতিয়ে দেখা উচিত। যারা বছরের পর বছর নিয়মিত কর দিয়ে আসছেন, চাকরিজীবী বা ছোট ব্যবসায়ী, তাদের এভাবে হয়রানি করা কতটা যৌক্তিক হচ্ছে, তা ভেবে দেখা উচিত।
একটা বিষয় তো স্পষ্ট, যেসব (বড় মাপের) করদাতার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কর আদায় করা যেত, তারা এনবিআরের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। কিন্তু প্রভাবশালী বলে তারা এভাবে কর ফাঁকি দিয়ে চলবে, নীতি-নৈতিকতার দিক থেকেও তা গ্রহণযোগ্য নয়। সবচেয়ে বড় কথা, ছোট করদাতার কাছ থেকে যে পরিমাণে কর আদায় করা যাবে, তাতে রাজস্ব আদায়ের চলতি ঘাটতি কিছুতেই পূরণ হবে না। এর পরিবর্তে বড় করদাতাদের কাছ থেকে কর আদায় করা গেলে সহজেই সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে এনবিআর। এটাই বেশি জরুরি। ছোট করদাতাদের হয়রানি না করে সেদিকেই এনবিআরের নজর দেওয়া উচিত। এতে কম সময়ে অনেক বেশি কর আদায় করা যাবে। লক্ষ্যমাত্রার ঘাটতিও কমবে। ছোট মাপের নিয়মিত করদাতারা হয়রানি থেকে রেহাই পাবে।














http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত কুমিল্লা
আগামী বাজেটে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ইলেকট্রিক বাস শুল্কমুক্ত করা হচ্ছে -গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী
ফারিহার স্বামী হৃদয়ের রিমান্ড আবেদন
দাউদকান্দির ৫৮৭ পরিবারপাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড
মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে গাড়ি চাপায় নিহত ২
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে কুমিল্লায় উচ্ছ্বসিত বিএনপির নেতাকর্মীরা
স্ত্রীর ঘুমের ব্যাঘাত নিয়ে বাকবিতণ্ডা, বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু
আধুনিক কুমিল্লা গড়তে কুসিকের হটলাইন নম্বর চালু ০১৩২৯-৬৬৩৩৬৬
কুমিল্লায় আলুর ‘সাথী ফসল’ মিষ্টি কুমড়া লাভবান কৃষক
কুবির নতুন ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২