নিজস্ব
প্রতিবেদক: কুমিল্লা নগরীর মুন্সেফবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে সিসিএন
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার
রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামী
মেহেদী হাসান হৃদয়ের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা
কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অমর্ত্য মজুমদার কুমিল্লার সিনিয়র
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে এ আবেদন করেন। বাদীপক্ষের
আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাফসীরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী ২০ মে
রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
নিহত ফারিহার বাবা ও মামলার
বাদী মো. হানিফ মজুমদার মুঠোফোনে জানান, তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে সরাসরি
কোনো তথ্য না পেলেও আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি রিমান্ড আবেদনের বিষয়টি জেনেছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত
রহস্য উদঘাটিত হবে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অমর্ত্য মজুমদার রিমান্ড
আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাৎক্ষণিকভাবে আবেদনের সুনির্দিষ্ট তারিখ
জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগেই আবেদন করা হয়েছে এবং নথিপত্র দেখে
বিস্তারিত নিশ্চিত করা যাবে।
এর আগে গত ১০ মে মামলার পাঁচ আসামি আদালতে
আত্মসমর্পণ করলে আদালত প্রধান আসামি মেহেদী হাসান হৃদয়ের জামিন নামঞ্জুর
করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে বাকি চার আসামি-হৃদয়ের বাবা আবদুর
রহিম, মা আফরোজা বেগম, বোন রীমা আক্তার ও ভগ্নিপতি মো. জাকারিয়া জামিন পান।
উল্লেখ্য,
গত ৫ মে রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামের
একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ফারিহার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সিসিএন
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড
ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি
নাঙ্গলকোট উপজেলার কান্দাল গ্রামে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রেমের
সম্পর্কের পর গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে মেহেদী হাসান হৃদয়ের
সঙ্গে ফারিহার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবিকে কেন্দ্র
করে তাকে নির্যাতন করা হতো। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের নির্যাতনের ফলেই
ফারিহার মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
