কুমিল্লার
সদর, বুড়িচং, দেবিদ্বার, চান্দিনা ও দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে আলুর
সাথী ফসল হিসেবে ব্যাপকভাবে আবাদ হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। স্বল্প খরচে এবং
বাড়তি সার ও কীটনাশক ছাড়াই উৎপাদিত এ বিষমুক্ত সবজি চাষ করে ভালো লাভের মুখ
দেখছেন কৃষকরা।
জানা যায়, উপরোক্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়
আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে কৃষকরা মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন করেন। আলুর জমিতেই
অতিরিক্ত চাষাবাদ ছাড়াই কুমড়ার বীজ রোপণ করা হয়। খুব কম পরিচর্যায় গাছ বেড়ে
ওঠে এবং ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যেই বাজারজাত করা সম্ভব হয়। এছাড়া কালি জাতের
মিষ্টি কুমড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে রোপণ করে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন
পেয়েছেন অনেক কৃষক।
সরেজমিনে দেশের বৃহৎ সবজির বাজার কংসনগর, নিমসার,
চান্দিনা, দাউদকান্দি ও দেবিদ্বারের বিভিন্ন কুমড়া হাট ঘুরে দেখা যায়,
স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে উৎপাদিত কুমড়া চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেটসহ দেশের
বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি
হেক্টর জমিতে কুমড়া আবাদে মোট খরচ হয় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তবে
উৎপাদিত কুমড়া বিক্রি করে আয় হচ্ছে প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। বর্তমানে
কৃষকরা কুমড়া বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এ
বছর ফলন কিছুটা কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
বুড়িচং উপজেলার নিমসার
বাজারে আসা ভ্রাম্যমাণ চাষি শাহিন ও সেলিম জানান, “১ একর জমিতে কুমড়ার চাষ
করেছি। গাছ মারা যাওয়ায় ফলন অনেক কম হয়েছে। প্রতি পিস কুমড়া ৩০ থেকে ৪০
টাকায় বিক্রি করছি।”
ব্যবসায়ী জয়নাল বলেন, “আমাদের এলাকার মিষ্টি কুমড়ার
ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এখান থেকে কুমড়া চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেটসহ
কয়েকটি জেলায় পাঠানো হয়।”
নিমসার বাজারের কুমড়া আড়তের ব্যবসায়ীরা জানান,
এ বছর ফলন কম হওয়ায় কুমড়ার আমদানিও কম। তারা প্রতিকেজি কাঁচা কুমড়া ১০
থেকে ১৫ টাকা এবং পাকা কুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকায় কিনছেন। এছাড়া কুমড়ার আকার ও
মানভেদে প্রতিটি “চুকতা” বা “লট” ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়
ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে।
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দৈনিক বাংলা ও
দৈনিক কুমিল্লার কাগজের প্রতিনিধিকে জানান, কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত
কুমড়া চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলায় চলতি বছর প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে
মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা আরও বেশি থাকলেও আবহাওয়া ও
রোগবালাইয়ের কারণে কিছুটা কম আবাদ হয়েছে। তবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা
হয়েছে কয়েক হাজার মেট্রিক টন।
